আপন নিবাসে ফিরতে ব্যাকুল ওরা


প্রকাশিত: ০৩:৩৬ এএম, ০৬ মার্চ ২০১৬

গাজীপুরের কোনাবাড়িতে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রের নিবাসীরা তাদের আপন নিবাসে ফিরে যেতে ব্যাকুল হয়ে আছে। অনেকে তাদের বাবা-মা ও আংশিক ঠিকানা বলতে পারলেও যেতে পারছেন না নিজ নিবাসে।

স্বজনদের কাছ থেকে দীর্ঘ দিন দূরে থাকা এসব শিশু কিশোরীরা বেকলই তাদের প্রিয় স্বজনদের প্রিয় মুখখানি খুঁজে ফেরেন। কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক এবং কর্মকর্তারা মাতৃস্নেহে এসব শিশু কিশোরীদের লালন পালন করছেন। তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন এসব শিশু কিশোরীদের তাদের স্বজনদের ফিরিয়ে দিতে। কিছুদিন আগে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় কিশোরীদের ছবি ছাপা হয়। এর ফলে ১০ শিশুকে আদালতের মাধ্যেমে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রের কিশোরী বীনা (১৩) জানান, তার বাবার নাম আসাদ। তারা এক ভাই ও এক বোন। বাবা রিকশা চালক। গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সদর পুরে। সে বাবা-মার সঙ্গে ঢাকার শাহজাহানপুরে থাকতো। জয়পাড়া এলাকায় রিকশার গ্যারেজে তার বাবা রিকশা চালাতো। দেড় বছর আগে তার মা তাকে ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজে দেয়। পরে ওই বাসার গৃহকর্তার ছেলে কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে যায়। সে পথ ভুলে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকায় ঘোরাফেরা করলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তার সঠিক ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে আদালতের মাধ্যমে ১ বছর চার মাস আগে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। কেন্দ্রে আসার পর কেন্দ্রের কর্মকর্তাগণ তার বলা ঠিকানা মতে গিয়ে খুঁজে কাউকেই পায়নি।

এমনিভাবে ঠিকানা না জানা অনেক কিশোরী এ কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী কিশোরীও রয়েছেন। তাদের নাম, ঠিকানা না পাওয়ায় পৌঁছানো যাচ্ছে না স্বজনদের কাছে। হারিয়ে যাওয়া কিশোরী ছাড়া বিভিন্ন মামলার কিশোরী অপরাধীরা আছেন এ কেন্দ্রে।

কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাসিমা আখতার বলেন, নাম-ঠিকানা না জানা এসব কিশোরীদের তাদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে সব রকম চেষ্টা করা হয়। তাদের বিভিন্নভাবে কাউন্সেলিং করা হয়। মানসম্মত খাবার, পোশাক পরিচ্ছেদ দেয়া হয়। কেন্দ্রের নিবাসীদের পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া তাদের এ্যাম্বয়ডারি, সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও ব্লক বাটিক প্রশিক্ষণ এবং আইনগত সহায়তা প্রদান করছে।
                    
এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।