ফেনীতে বেড়েছে মৌসুমি ভিক্ষুকের আনাগোনা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৮:২০ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২৩

পবিত্র রমজানে ফেনীতে মৌসুমি ভিক্ষুকের সংখ্যা বেড়েছে। শহরের অলিগলি, বিভিন্ন মসজিদ, হোটেল- রেস্তোরাঁর সামনে, সড়কের মোড় ও বিপণিবিতানের সামনে অবস্থান নিচ্ছেন তারা। ট্রেনে করে এসব ভিক্ষুক আসেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও লাকসাম থেকে। শপিংমল থেকে কেনাকাটা করে বের হলে তাদের অনেকে ব্যাগ ধরে টানাটানি শুরু করেন। এতে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলায় স্থানীয় ভিক্ষুকের সংখ্যা প্রায় দুই হাজারের মতো। এদের মধ্যে পূনর্বাসন করা হয়েছে ৪০০ জনকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এবং রমজানকে কেন্দ্র করে শহরে ভিক্ষুকদের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে।

jagonews24

শহর ঘুরে দেখা গেছে, শহরের ট্রাংক রোডের দোয়েল চত্বর, খেজুর চত্বর, রাজাঝির দিঘির পাড়, বড় মসজিদ, জহিরিয়া মসজিদ, সিএনজি স্ট্যান্ড, মহিপাল বাসস্ট্যান্ড, ফেনী রেলস্টেশনসহ সর্বত্র রয়েছে ভিক্ষুকদের আনাগোনা। রিকশা বা অটোরিকশা থেকে নামলেই ভিক্ষুকদের দল এসে ঘিরে ধরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এদের মধ্যে নারী, পুরুষ ছাড়াও শিশুরা রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের স্থানীয় ভিক্ষুকদের তুলনায় ভাসমান ভিক্ষুকদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। ফেনীর আশপাশের এলাকা থেকে দলে দলে এসে শহরে ভিড় জমান তারা।

jagonews24

বেশ কয়েকজন ভিক্ষুকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাসমান এসব ভিক্ষুকদের বেশিরভাগই আসেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট, লাকসাম এলাকা থেকে। সকালের ট্রেনে করে ফেনী স্টেশনে নেমে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েন তারা। সারাদিন ভিক্ষা করে বিকেলের ট্রেনে চড়ে বাড়ি ফিরে যান।

ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের খোকন নামের এক ব্যবসায়ী জাগো নিউজকে বলেন, সকালে ভিক্ষুকদের ট্রেনে করে ফেনীতে আসতে দেখা যায়। অন্ধ, বৃদ্ধ ভিক্ষুকদের পাশাপাশি যাদের কাজ করার ক্ষমতা আছে তারাও ভিক্ষাবৃত্তি করতে আসেন।

jagonews24

শহরের ট্রাংক রোডে ভিক্ষা করছিলেন আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট। নিজ শহরে ভিক্ষা করতে লজ্জা পান। এজন্য নাঙ্গলকোট থেকে ফেনীতে এসে ভিক্ষা করেন।

পথচারী আবুল খায়ের ইমু বলেন, ‘শহরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ, মসজিদ থেকে বের হতেই এরা পা আঁকড়ে ধরে। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত ছাড়তে চায় না। অনেক সময় রাগ হলেও ৫-১০ টাকা দিয়ে চলে যাই।’

ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, ভিক্ষুক পুনর্বাসনের জন্য নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে যারা স্থায়ী ভিক্ষুক তাদের জানা কাজ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হবে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।