ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস বলে বিক্রি করা কসাই গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:২৫ এএম, ২০ এপ্রিল ২০২৩

রোগাক্রান্ত ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস বলে বিক্রি করা কক্সবাজারের বহুল আলোচিত মাংস বিক্রেতা মাহবুবুল আলম ওরফে কসাই মাহাবুকে (৩৪) গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে কক্সবাজার ক্যাম্পের কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি চৌকস দল রামু উপজেলার পাহাড়ি বড়ঢেপা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

মাহাবুবুল কক্সবাজারের উখিয়া থানার মরিচ্যা এলাকার বাসিন্দা মিয়া জানের ছেলে।

ভোক্তাদের গরুর মাংস বলে ঘোড়ার মাংস খাইয়ে প্রতারণাকারী কসাই মাহাবুর বিরুদ্ধে হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য এম মনজুর আলম বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।

র‌্যাব সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্র সৈকতে পর্যটক মনোরঞ্জনে ব্যবহারের পর অসুস্থ, বৃদ্ধ ঘোড়াগুলোকে কখনো অল্প মূল্যে, কখনো বিনামূল্যে বিভিন্ন কৌশলে সংগ্রহ করে সেগুলো জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করতেন কসাই মাহাবু। এভাবে ২০-২৫টি ঘোড়া এরইমধ্যে জবাই করে মাংস ভোক্তাদের খাইয়েছেন তিনি। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহাবুবুল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করে নেন। তবে তার দাবি, যেহেতু গরুর চেয়ে ঘোড়া বেশি মূল্যবান প্রাণী, তাই ঘোড়ার মাংস বিক্রি করে তিনি কোনো অন্যায় করেননি।

হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে অসুস্থ ঘোড়া এনে জবাই করে সেই মাংস গরুর বলে বিক্রি করতেন মাহাবু। এমনকী কুকুরও জবাই করে খাসির মাংস হিসেবে বিক্রির গুঞ্জন রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাকে র‌্যাব গ্রেফতার করায় এলাকাবাসী খুশি। তাকে ধরতে পরিষদ র‌্যাবকে সহযোগিতা করেছে।

সূত্র মতে, গত ১৮ এপ্রিল রাতে উখিয়ার মরিচ্যা বাজারের কসাই মাহাবুবুল আলম অসুস্থ ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস বলে বিক্রি করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালেহ আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মাহাবু পালিয়ে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

তবে এসময় ঘোড়ার মাথা, চামরাসহ মাংস জব্দ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে কসাই মাহাবুকে গ্রেফতারে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। অবশেষে ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হলেন তিনি।

কসাই মাহবুবুলকে গ্রেফতার অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া কক্সবাজার র‌্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, ঘোড়ার মাংস বিক্রির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই মাহবুব গা ঢাকা দেন। গ্রেফতার এড়াতে তিনি কবরস্থানের মতো জায়গা বেছে নিয়ে সেখানে অবস্থান শুরু করেন। প্রায় ২৪ ঘণ্টার টানা অভিযানে বুধবার ইফতারের আগে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কসাই মাহাবুকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এমন জঘন্য অপকর্মে কেউ যেন লিপ্ত হতে না পারে, র‌্যাব সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

সায়ীদ আলমগীর/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।