নারায়ণগঞ্জে ৬ গ্রামের দুঃখ একটি সড়ক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:২১ এএম, ০২ মে ২০২৩

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চড় গড়কূল-আনন্দবাজার সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে। রাস্তাজুড়েই বড় বড় গর্ত। প্রায় ১৪ বছর ধরেই রাস্তাটির সংস্কার করা হচ্ছে না। বর্তমানে রাস্তাটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। পায়ে হেঁটেই যাতায়াত করতে হয়। ফলে সড়কের সঙ্গে যুক্ত ৬ গ্রামের প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কজুড়েই সলিং করা ইট বালু সরে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার দুইপাশ ভেঙে সরু হয়ে গেছে। রাস্তার মাঝামাঝি জায়গার একটি ছোট ব্রিজ রয়েছে যার দুইপাশে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আর এমন অবস্থায় অনেকদিন ধরেই এই রাস্তা দিয়ে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রাতের আঁধারে যে কেউ হেঁটে যাওয়ার সময়ে পড়ে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। সেই সঙ্গে বর্ষাকাল আসলে বলারই অপেক্ষা রাখে না। আর এই দুরবস্থার মধ্যে দিয়েই সীমাহীন ভোগান্তি নিয়ে দিনযাপন করছেন এলাকার বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৯ সালে নির্মিত চর গড়কূল-মীরগঞ্জ সড়কটির সঙ্গে মীরগঞ্জ, চর গড়কুল, চর বয়রাগাদী, চর ইন্দ্রাদী, চর গংঙ্গাপ্রসাদ ও উত্তর রায়পুরসহ মোট ৬টি গ্রামের বাসিন্দারা সংযুক্ত রয়েছেন। আর এই ৬টি গ্রামে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। রাস্তাটির দূরবস্থার কারণে তাদের প্রতিনিয়তই পায়ে হেঁটেই যাতায়াত করতে হয়।

jagonews24

সেই সঙ্গে এই এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দারা কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। ৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের কেন্দ্র করে প্রায় কয়েকশত একর কৃষি জমি রয়েছে। যাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য মাথায় করেই পরিবহন করতে হয়।

নবম শ্রেণির স্কুল ছাত্র সাকিব বলেন, এই রাস্তাটি ভালো হয়ে গেলে আমাদের অনেক উপকার হবে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে পারি না। আমাদের বাবা-চাচারা ব্যবসা বাণিজ্য করে কিন্তু তারা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন না। বৃষ্টি হলে রাস্তাটির ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়। বর্ষাকালে রাস্তা তলিয়ে যায়। অনেক সময়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেও ভয় লাগে।

আলমাস নামে এক কৃষক বলেন, আমাদের ৯নং ওয়ার্ডের মধ্যে সর্বপ্রথম এই রাস্তাটি নির্মাণ হয়েছিলো। কিন্তু এখন এই রাস্তাটিই সবচেয়ে অবহেলিত। আমরা যারা কৃষিকাজ করি তারা রাস্তা দিয়ে মালামাল আনা নেওয়া করতে পারি না। এক থেকে দেড় কিলোমিটারের এই রাস্তাটি সংস্কার হলে আমরা অনেক উপকৃত হবো। এই রাস্তাটির ব্যাপারে সকলেই অবগত আছে। কিন্তু তারপরেও রাস্তাটির সংস্কার করা হচ্ছে না।

একইভাবে সিরাজুল ইসলাম মিন্টু নামে আরেক কৃষক বলেন, এই রাস্তাটির জন্য আমরা কোনো মাল নিতে পারি না। আমাদের যারা জনপ্রতিনিধি আছেন তারা একটু এই রাস্তার দিকে দৃষ্টি দিতেন তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো। আমরা এই রাস্তাটির সংস্কার চাই।

jagonews24

গড়কূল গ্রামের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, প্রায় দেড় কিলোমিটারের এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এলাকার অনেক সমস্যা হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁদা জমে যায়। আমাদের এখানে যারা কৃষি কাজ করে তারা মালামাল নিতে পারেন না। কোনো পরিবহন আসে না। রাস্তাটি সংস্কার করা হলে এলাকার সবার উপকার হতো।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর যাবৎ আমরা এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। এই রাস্তার সংস্কার করার জন্য হাজারবার বলার পরেও রাস্তাটির কাজ হচ্ছে না। কেন হচ্ছে তা জানা নেই কারও। অচিরেই এই রাস্তাটির সংস্কার চাই। এটা এখন আমাদের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মো. আমজাদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, রাস্তার দুই পাশে শতাধিক গাছ রয়েছে। যার কারণে রাস্তাটি সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আশা করি আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সেই সাথে রাস্তাটিও সংস্কার হয়ে যাবে।

বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী জাগো নিউজকে বলেন, এই রাস্তাটি নির্মাণের সময়ে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছিলো। রাস্তা উচুঁ না করেই ইটের কাজ করে ফেলছিলো। সেই সাথে দুইপাশে গাছ লাগিয়ে দেওয়া হয়। যার কারণে বর্ষাকাল আসলেই রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে যায়। গাছ ছোট থাকার কারণে গাছ কাটার অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি গাছ বহাল রেখে আগামী শুষ্ক মৌসুমে কাজ শুরু করবো।

তিনি আরও বলেন, রাস্তাটি তেমন বড় না হলেও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। কৃষকরা তাদের মালামাল আনা নেওয়া করতে পারে না। যার কারণে রাস্তাটির কাজ করা জরুরি দরকার হয়ে পড়েছে। আমার এলাকায় মোটামুটি সব কাজ হয়ে গেছে। শুধু এই রাস্তাটির কাজই বাকি রয়ে গেছে। আশা করছি আগামী বছর এই রাস্তার কাজটি হয়ে যাবে।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।