র‌্যাব আটকের পর মৃত্যু

জেসমিনের স্বজন-প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য শুনলো তদন্ত কমিটি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১১:৩৭ এএম, ৩০ মে ২০২৩

নওগাঁয় র‌্যাব আটকের পর ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সুলতানা জেসমিনের (৪০) মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।

সোমবার (২৯ মে) বিকেলে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সুলতানা জেসমিনের ছেলে, ভাই ও মামা, বাড়িওয়ালা এবং দুজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছেন।

তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলে বের হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সার্কিট হাউজ চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সুলতানা জেসমিনের মামা নাজমুল হক মন্টু ও তার ভাই সুলতান মাহমুদ।

হাইকোর্টের এক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ মে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, নওগাঁর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং নওগাঁর পুলিশ সুপারের মনোনীত একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

জেসমিনের স্বজন-প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য শুনলো তদন্ত কমিটি

তদন্ত দলের সদস্যদের মধ্যে নওগাঁর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইমতিয়াজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল করিম, সিভিল সার্জন আবু হেনা মো. রায়হানুজ্জামান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমানকে সার্কিট হাউজে ঢুকতে দেখা যায়।

নিহত সুলতানা জেসমিনের মামা নাজমুল হক বলেন, নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় থেকে ভাগ্নিকে (সুলতানা জেসমিন) র‌্যাব সদস্যরা আটকের পর নওগাঁ হাসপাতাল থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং দাফনকার্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন কী ঘটেছে তার বর্ণনা আমাদের কাছ থেকে শুনেছেন তদন্ত দলের সদস্যরা। এছাড়া বাসা থেকে জেসমিন ও মামলার বাদী এনামুলের মধ্যকার বিভিন্ন অংকের টাকা লেনদেনের কাগজপত্র আমরা পেয়েছি। সেগুলো তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি নিরপেক্ষ তদন্ত হলে আমরা ন্যায়বিচার পাবো।

জেসমিনের স্বজন-প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য শুনলো তদন্ত কমিটি

সুলতানা জেসমিন নওগাঁ পৌরসভা ও চন্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকরি করতেন। তিনি শহরের জনকল্যাণ মহল্লার ভাড়া বাসায় থেকে নিয়মিত অফিসে যাতায়াত করতেন। চলতি বছরের ২২ মার্চ সকালে অফিসে যাওয়ার পথে শহরের মুক্তির মোড় এলাকা থেকে র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্প তাকে আটক করে। স্থানীয় সরকারের রাজশাহী বিভাগের পরিচালক এনামুল হকের মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে নিয়েই র‌্যাব এ অভিযান চালায়।

এনামুল হকের অভিযোগ, জেসমিন ও আল-আমিন নামের এক ব্যক্তি তার (এনামুল) ফেসবুক আইডি হ্যাক করে বিভিন্নজনকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছিল। এভাবে তারা প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।

আটকের পর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সুলতানা জেসমিনকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। রামেকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ মার্চ সকালে তিনি মারা যান।

আব্বাস আলী/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।