শেরপুরে নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণে সেমিনার
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় শেরপুরে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার শেরপুর খামারবাড়ী সভাকক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জেলা পর্যায়ের এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমনিারে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্ষা পরবর্তী ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ করে রবি শষ্যে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি করে কাঙ্খিত ফলন লাভ করা যায়। স্বল্প খরচে সেচ পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও সেচ এলাকা সম্প্রসারণ করা যায়। শেরপুরের নালিতাবাড়ী, নকলা ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় ভোগাই, চেল্লাখালি ও মহারশি নদীর ওপর চারটি রাবার ড্যাম নির্মিত হয়েছে। এতে করে শুষ্ক মৌশুমে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর অতিরিক্ত জমি সেচ সুবিধার আওতায় এনে বিভিন্ন ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে।
রাবার ড্যাম প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, রাবার ড্যাম মুলত রাবার ও সিনথেটিক ফাইবারের মিশ্রণে তৈরি ব্যাগ যা দ্বারা নদীতে বাঁধ দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি সংরক্ষণ করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাগের উচ্চতা বাড়িয়ে বা কমিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বর্ষাকালে রাবারের বাতাস নিঃসরণ করে নদী সমতলে ব্যাগটিকে আটকে রাখা যায়।
সেমিনারে শেরপুর খামারবাড়ীর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাবার ড্যাম প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে এটিআই অধ্যক্ষ মো. আহসানুল্লাহ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা আকন্দ, জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মান্নান, জেলা সমবায় কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, এলজইডির সিনিয়র সহকারি প্রকৌশলী আনোয়ার পরভেজ, বিএডিসির সহকারি প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সেমিনারে ৫ উপজেলার কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, সমবায়, এলজিইডি, বিএডিসির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক, উপকারভোগীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
হাকিম বাবুল/এফএ/এমএস