রাঙামাটিতে গণসমাবেশে জনতার ঢল


প্রকাশিত: ০৯:২৪ এএম, ২৪ মার্চ ২০১৬

‘আর নয় প্রতিবাদ, এবার হবে প্রতিরোধ’ এমন শ্লোগানের ডাকে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ প্রতিনিয়ত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, গুম এবং হুমকি ধামকিসহ সব ধরনের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাঙামাটিতে এক গণবিক্ষোভ মিছিল ও বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নামে অসংখ্য জনতার ঢল।

জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ‘রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে আয়োজিত এই সার্বজনিন গণসমাবেশ থেকে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ অব্যাহত সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলের জন্য গণপ্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দীপংকর তালুকদার। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে চিরতরে সন্ত্রাস নির্মূলে চিহ্নিত অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে চিরুণী অভিযান পরিচালনা এবং আরও ব্যাপক হারে সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা বাড়ানোর জন্য প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি উদ্দাত্ত আহবান জানিয়েছেন।

এ সময় এলাকায় এলাকায় তীব্র গণপ্রতিরোধসহ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ধরিয়ে দিতে সর্বস্তরের জনগণকে আইনশৃংখলা বাহিনীকে সহায়তা করার আহবান জানান দীপংকর তালুকদার। তিনি সমাবেশের পর পরই পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূলে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় আরও তীব্র ও কঠিন কর্মসূচি দেয়া হবে।

সকাল ১০টায় জনসমাগম ঘটে রাঙামাটি পৌরসভা চত্বরে। এরপর সেখান থেকে শুরু হয় গণবিক্ষোভ মিছিল। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউ মার্কেট চত্বর গিয়ে মিছিল শেষে সেখানে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক ১৮-২০ সংগঠনের নেতাকর্মী ও হাজার হাজার পাহাড়ি বাঙালির জনতা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দিন দিন চাঁদাবাজির হার বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি। তাদের জনজীবন অতীষ্ঠ ও বিপন্ন। উন্নয়ন কাজে চাঁদার হার এমনভাবে বাড়িয়েছে ৫ লাখ টাকার কাজে ৩ লাখ টাকা দাবি করছে সন্ত্রাসীরা। ফলে পার্বত্য এলাকায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। ঠিকাদাররা কাজ করতে পারছেন না। চাঁদা আদায়ে এখানকার কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা সন্ত্রাসীদের সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ করেন দীপংকর তালুকদার।

এ সময় সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে দীপংকর তালুকদার বলেন, আজ থেকে কেউ চাঁদা দিবেন না। সাধারণ মানুষ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেজন্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জায়গায় জায়গায় গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সন্ত্রাসীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে সম্ভব না, তাই জনগণকে সহায়তা করতে হবে।

জেলা হেডম্যান সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি চিংকিউ রোয়াজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। এছাড়াও রাঙামাটির সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙামাটি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, অটোরিকশা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান রোমান, রিজার্ভবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন, বনরূপা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাপস দাশ, কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অংসু ছাইন চৌধুরী প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতব্বর।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।