৪৩ বছরের পুরোনো ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসা
নারায়ণগঞ্জে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ৪৩ বছরের পুরোনো ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা এবং সেবা নিতে আসা রোগীরা। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া ক্যানেলপাড়া এলাকায় অবস্থিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। এ কেন্দ্রের ভবনটি সংস্কারের অভাবে এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনটির অধিকাংশ স্থানের পলেস্তারা খসে পড়েছে। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে ভবনটির আশেপাশে বিভিন্ন ঝোপঝাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই ভবনটির ভেতরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সংস্কারের অভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি যেন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘পরিস্থিতি এমন থাকলে না খেয়ে মরতে হবে’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোট চারজন কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন কেন্দ্র পরিদর্শিকা এবং একজন অফিস সহকারী রয়েছেন। প্রতিদিন এখানে আশেপাশের এলাকার অর্ধশতাধিক মানুষ সেবা নিতে আসেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে মাসে পাঁচ শতাধিক ডেলিভারি করা হয়। তাই ওই এলাকার নারীদের জন্য এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অতি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অতি দ্রুত ভবনটি সংস্কারের দাবি রোগী ও চিকিৎসকদের।

পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা রুমি আক্তার নামে এক রোগী জানান, এই এলাকার একমাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্র এটি। এখানে শুধুমাত্র নারীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। আশপাশে এমন আর কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। কিন্তু সংস্কারের অভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
সেবা নিতে আসা আমরিন জামান নামের আরেক রোগী জানান, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশ এতোই নাজুক যে এখানে চিকিৎসা নেওয়াও আতঙ্কের বিষয়। সবসময় চিন্তায় থাকি কখন যে এটি ভেঙ্গে পড়ে। আর বৃষ্টি হলেতো আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। তখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসার কথা চিন্তাও করা যায় না।

আরও পড়ুন: বেড়েছে শেরপুরের প্রতিমার কদর, যাচ্ছে পাশের ১০ জেলায়
আবুল হোসেন নামের ওই এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আশপাশের এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর আকুল আবেদন তারা যেন সরেজমিনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা আম্বিয়া আক্তার জানান, এখানে গর্ভবতী মায়েদের চেকআপ, পরিবার পরিকল্পনা ব্যবস্থা, ডেলিভারি, প্রসবসেবা, মা ও শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি রোগীকে সুস্থ করে তোলার। হাসপাতালটির সংস্কার করা হলে আমরা রোগীদের আরও ভালো সেবা দিতে পারবো।

সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা কাজী মাহবুবা আমিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনটি বেহাল অবস্থায়। চেষ্টা করেও আমরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশে ঠিক রাখতে পারছি না। এমন পরিবেশে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে আমরাও অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কায় থাকি।
আরও পড়ুন: ‘নদী আমগোর সব শেষ কইরে দিছে’
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনার নারায়ণগঞ্জের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার শর্মা বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি খুব শিগগিরই সংস্কার করা হবে।
রাশেদুল ইসলাম রাজু/জেএস/এমএস