মিরসরাইয়ে কমেছে আদার চাষ, বেড়েছে হলুদ-মরিচ

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: ০৯:৩৯ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০২৩

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ বেড়েছে। গত ৬ বছরে উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ বেড়েছে ৭০ হেক্টর। তবে কমেছে আদার আবাদ। বেড়েছে মরিচ ও হলুদের আবাদ।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ বছরে মিরসরাইয়ে ৭০ হেক্টর মসলা জাতীয় ফসল আবাদ বেড়েছে। তবে অনাবৃষ্টির কারণে আদা আবাদ চলতি বছর কিছুটা কমেছে। ২০১৮ সালে উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ হয়। এরমধ্যে আদা আবাদ হয়েছিল ৩০ হেক্টর, হলুদ ২০ হেক্টর ও মরিচ ৩০০ হেক্টর।

২০১৯ সালে মোট মসলা জাতীয় ফসল আবাদ হয়েছে ৩৭০ হেক্টর। আদা আবাদ হয়েছে ৩০ হেক্টর, হলুদ ২০ হেক্টর ও মরিচ ৩২০ হেক্টর। ওই বছরে মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ বেড়েছে ২০ হেক্টর।

২০২০ সালে মোট মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ হয়েছে ৩৭২ হেক্টর। এতে হলুদ ২২ হেক্টর, আদা ৩০ হেক্টর ও মরিচ আবাদ হয়েছিল ৩২০ হেক্টর। ওই বছর মসলা জাতীয় ফসল আবাদ বেড়েছে ২ হেক্টর।

২০২১ সালে ১৮ হেক্টর বেড়ে মসলা জাতীয় ফসল আবাদ হয় ৩৯০ হেক্টর। হলুদ ২০ হেক্টর, আদা ৩০ হেক্টর ও মরিচ আবাদ হয়েছিল ৩৪০ হেক্টর। ওই বছর হলুদ দুই হেক্টর কমে মরিচ আবাদ বেড়েছে ২০ হেক্টর।

আরও পড়ুন: মিরসরাইয়ে কমেছে কালোজিরা ধানের চাষ

২০২২ সালে মোট মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ হয়েছিল ৪০২ হেক্টর। এতে মরিচ ৩৫০ হেক্টর, আদা ৩০ হেক্টর ও হলুদ আবাদ হয়েছে ২২ হেক্টর। ওই বছর মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ বেড়েছে ১২ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় ২০২২ সালে হলুদ দুই হেক্টর ও মরিচ আবাদ বেড়েছে ১০ হেক্টর।
২০২৩ সালে মোট মসলা জাতীয় ফসল আবাদ হয়েছে ৪২০ হেক্টর। এরমধ্যে আদা ২৫ হেক্টর, হলুদ ২৫ হেক্টর ও মরিচ আবাদ হয়েছে ৩৭০ হেক্টর জমিতে। ৩৭০ হেক্টরের মধ্যে রবি মৌসুমে ৩৬০ হেক্টর ও খরিপ মৌসুমে ১০ হেক্টর আবাদ হয়েছে।

কৃষকরা হালদা, মোহনা ও বিজলী জাতের মরিচ বেশি চাষ করছে। হলুদের মধ্যে স্থানীয় জাতই কৃষকদের বেশি পছন্দ। গত ৬ বছরে আদার আবাদ কমেছে ৫ হেক্টর। মরিচের ৭০ হেক্টর ও হলুদের আবাদ বেড়েছে ৫ হেক্টর।

এদিকে মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদন বাড়াতে কৃষি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে ২০২২ সালে ৬০ জন ও চলতি বছর ৬০ জন কৃষককে মসলা জাতীয় ফসল আবাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া যে সব জমি আদা চাষে উপযোগী নয় সেই সব জমিতে ব্যাগ পদ্ধতিতে আবাদ করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

ব্যাগিং পদ্ধতিতে আদা চাষ করা উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার চাষি সাইফুল আলম জানান, তার জমিতে পাথর বেশি থাকায় আদা চাষ হচ্ছে না। তাই ব্যাগিং পদ্বতিতে আদা চাষ করতে কৃষি অফিস থেকে ব্যাগ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ব্যাগিং পদ্ধতিতে আদা চাষ করছেন।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, মিরসরাইয়ে মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ বাড়ছে। আমরা গত দুই বছর ধরে মসলা জাতীয় ফসল আবাদে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি। গত দুই বছরে ১২০ জন কৃষক প্রশিক্ষণ শেষে মসলা জাতীয় ফসল আবাদ করেছেন।

এম মাঈন উদ্দিন/আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।