ঢাকায় মহাসমাবেশ
যশোরে বিএনপির ৪৪ নেতাকর্মী গ্রেফতার
ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশের আগে যশোরে ধর-পাকড় শুরু হয়েছে। বুধবার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের ৪৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে পুলিশ বলছে, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ঢাকার সমাবেশে যোগ দেওয়া ঠেকাতেই পুলিশ নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও গ্রেফতারসহ হয়রানি করছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশের আগে বুধবার মধ্যরাত থেকে যশোর সদর ও বাঘারপাড়া উপজেলায় ধরপাকড় শুরু হয়েছে। এছাড়া নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি করছে। বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এ দুই উপজেলায় ৪৪ জন নেতাকর্মী আটক করেছে পুলিশ। তাদের আটক করে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারদের মধ্যে আছেন- যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওহাব, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক নিজামুদ্দিন মোল্লা, লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি নুরুল ইসলাম, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলাল শেখ, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আবুল বিশ্বাস, যশোর নগর বিএনপি নেতা কাজী ইসরাফিল, রফিকুল ইসলাম।
এছাড়া নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুমসহ অন্তত ২৫ জনের বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নেতাকর্মীরা।
জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজন হাওলাদার মানিক অভিযোগ করে বলেন, বুধবার রাত দেড়টার দিকে সাদা পোশাকে কয়েকজন পুলিশ আমাকে ধরার জন্য আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আমি পালিয়ে যাই। না পেয়ে আমার বাড়ির প্রধান ফটক ভাঙচুর করে চলে যায়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ আমার নামে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। সম্প্রতি ওইসব মামলা থেকে জামিনে আছি। এরপরও বিনাকারণে পুলিশ গ্রেফতারে নেমেছে।
বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘অনেক নেতাকর্মীর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই, অনেকেই জামিনে আছেন। এরপরও গণগ্রেফতার করা হচ্ছে। ঢাকায় আমাদের মহাসমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে এ গ্রেফতার অভিযান চলছে। কিন্তু কোনোমতেই এ মহাসমাবেশ আটকানো সম্ভব নয়, মানুষ স্রোতের মতো মহাসমাবেশে যাচ্ছে, যাবে।
যশোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন জাগো নিউজকে বলেন, রাজধানীতে মহাসমাবেশে যোগদানে বাধা সৃষ্টি করতে এ গ্রেফতার চালানো হচ্ছে। ২৮ অক্টোবর ঢাকায় দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যশোর জেলা থেকে ১০ হাজার নেতাকর্মী প্রস্তুত আছেন। এরই মধ্যে বেশিরভাগ নেতাকর্মী ঢাকায় চলে গেছেন। যত বাধা আসুক না কেন আমরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে যোগ দেবো।
এ বিষয়ে যশোর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) বেলাল হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। ২৮ অক্টোবরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো গ্রেফতারর চালানো হচ্ছে না। যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা রয়েছে তাদেরকেই শুধু আটক করা হচ্ছে। কাউকে হয়রানি করতে গ্রেফতার করা হয়নি।’
মিলন রহমান/এসজে/এএসএম