ভোটের হিসেব পাল্টে দিতে পারে আ.লীগ বিদ্রোহীরা


প্রকাশিত: ০৪:০৫ এএম, ৩০ মার্চ ২০১৬

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও দৌলতপুর উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার। এরই মধ্যে ভোটের সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। বুধবার মধ্যরাত থেকে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হলেও চায়ের দোকান, হাট-বাজারসহ নানা আড্ডায় এখন আলোচনার বিষয় নির্বাচন। কে জিতবে আর কে হারবে তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

দুই উপজেলার ২০ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ২৯ জন। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অনেকটা গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব বিদ্রোহীরা। বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে বিদ্রোহীরা। সেখানে তাদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে পারেন এ বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

দলীয় মনোননয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রার্থী মনোনয়নে কেন্দ্রের নির্দেশনা মানা হয়নি। তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বাদ পড়েছে মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী ও এলাকায় জনপ্রিয় ব্যক্তিরা। সবকটি ইউনিয়নেই দুই থেকে তিনজন করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এতে দলীয় নেতা-কর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ায় ভোটের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হরিরামপুরের ১২ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী ১৬ জন। উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বাচ্চু মিয়া। এখানে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম হাজারী ও স্বপন কুমার ঘোষ। গোপীনাথপুর ইউনিয়নে দলের মনোনীত প্রার্থী এ জেড এম সফিউল্লাহ। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মাহমুদুল হাসান মোল্লা ও শওকত আলী মোল্লা।

গালা ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী রাজিব হাসান। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সালাহউদ্দিন বুলবুল, আবদুল মান্নান ও হামিদুর রহমান শিকদার। চালা ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কাজী আব্দুল মজিদ। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান শামসুল আলম বিশ্বাস ও সেলিম মোল্লা। রামকৃৃষ্ণপুর ইউনিয়নে দলের মনোনীত প্রার্থী কামাল হোসেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী বজলুর রহমান। বয়ড়া ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী হলেন সৈয়দ হাসান ইমাম। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন পবিত্র কুমার শাখারী।

Manikganj

হারুকান্দি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী আবদুর রহিম বিশ্বাস। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চুন্নু। সুতালড়ি ইউনিয়নে আবদুস সালাম দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এখানে সেকেন্দার আলী বিশ্বাস বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আজিমনগর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী বিল্লাল হোসেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আরব আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হারুকান্দি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চুন্নু। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দল করছেন। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান অথচ তাকে দলের মনোনয়ন না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

বয়ড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পবিত্র কুমার শাখারী। তিনি বলেন, দলের নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থী যাচাই বাছাই করা হয়নি। এ কারণে উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নগুলোতে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ১৬ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। চকমিরপুর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়র পেয়েছেন  মোশারফ হোসেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন শফিকুল ইসলাম। ধামশ্বর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইদ্রিস আলী। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল মজিদ প্রধান ও হারুন কুদ্দুস। কলিয়া ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন একেএম সিদ্দিকুর রহমান। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জাকির হোসেন, আবুল হোসেন ও আব্দুল বাতেন।

বাচামারা ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুর রশিদ সরকার। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী  হয়েছেন আব্দুল লতিফ। চরকাটারী ইউনিয়নের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ আলী। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল বারেক ও আইয়ুব আলী। জিয়নপুর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বেলায়েত হোসেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইশারত আলী। বাঘুটিয়া ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন  জাহাঙ্গীর আলম। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তোফাজ্জল তোতা।

Manikganj

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় এরই মধ্যে ২৪ বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, তৃণমূলের মতামত ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এর মধ্যে অনেকে নির্বাচন থেকে সরেও দাঁড়িয়েছে। যারা এখনও বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি মনে করেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে নির্বাচনে কোন প্রভাব পড়বে না। কারণ সরকারের উন্নয়নের কারণে জনগণ নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করবেন।
 
বি.এম খোরশেদ/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।