৩ কোটি টাকার সোনার বার ‘আত্মসাৎ’ করায় যুবককে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৮:৪৫ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০২৩

যশোরে তিন কোটি টাকার সোনার বার আত্মসাতের অভিযোগে ওমর ফারুক (২৬) নামের এক যুবককে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

নিখোঁজের ছয়দিন পর বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) মাগুরা সদর উপজেলার আলমখালী-পশ্চিম রামনগর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা ফিরোজা বেগম বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেছেন।

নিহত ওমর ফারুক শার্শা উপজেলার টেংরালী গ্রামের ওসমান আলী ও ফিরোজা বেগমের ছেলে।

মামলার বাদী ফিরোজা বেগমের ভাষ্যমতে, শনিবার (১১ নভেম্বর) ওমর ফারুক সুমন তার বোনের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। ওইদিন রাতে ছেলে বাড়িতে না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর করেন। কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে সোমবার (১৩ নভেম্বর) শার্শা থানায় অভিযোগ করতে যান। কিন্তু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিযোগ নেননি।

থানা থেকে বের হওয়ার পর একটি নম্বর থেকে ফিরোজা বেগমের ফোনে রিং আসে। বলা হয়, ‘তোমার ছেলে সাড়ে তিন কোটি টাকার সোনা আত্মসাৎ করার কারণে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। ওই সোনাগুলো ফেরত দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’ এরপর তাদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে বেনাপোল বন্দরের তিন নম্বর গেটের সামনে আসতে বলেন।

তাদের কথামতো ফিরোজা বেগম তার ভাই শিমুল বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে বেনাপোল গাজীপুরে শাহাবুদ্দিন গোলদারের তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পশ্চিম পাশের কক্ষে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান বেনাপোল ৯ নম্বর ওয়ার্ডের (বড়আঁচড়া) কামাল হোসেন, সাদীপুর গ্রামের এজাজ রহমান, শার্শার শালকোনার তরিকুল ইসলাম ও একই এলাকার পলাশ হোসেনসহ ৮-১০ জন ওমর ফারুককে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করছেন। তারা বলছেন, ‘সোনার বার কোথায় রেখেছিস? সেগুলো বের করে দে’।

ফিরোজা বেগম বলেন, ‘এরপর আমার ছেলে আমাকে বলে বাড়িতে গিয়ে রাস্তার পাশে লুকানো ও বাড়ির বাক্সের ভেতর সোনার বারগুলো আছে। সেগুলো নিয়ে তাদেরকে দিয়ে দাও’। কিন্তু সেখানে লোকজন নিয়ে তল্লাশি করেও সোনার কোনো বার পাওয়া যায়নি। তারপর থেকেই তার ছেলের আর কোনো সন্ধান নেই বলে উল্লেখ করেন ফিরোজ বেগম।

বিষয়টি নিয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি বেনাপোল বন্দর থানার মধ্যে হওয়ায় তাদের পোর্ট থানায় যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে মামলা করা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি কামাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমি সঙ্গে সঙ্গে মামলা নিই। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে কাজ করছিল। বৃহস্পতিবার মাগুরা পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি সেখানে একটা মরদেহ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনের পর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মিলন রহমান/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।