নির্বাচন সামনে রেখে ক্যাম্পে নাশকতার চেষ্টা ছিল আরসার: র‌্যাব

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৪:৩৯ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩

কক্সবাজারের উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের সন্ত্রাসী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সঙ্গে র‌্যাবের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আরসা সদস্যরা ক্যাম্পে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বলে জানা যায়।

সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযানকালে এ ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির পর আরসার শীর্ষ কমান্ডারসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে র‌্যাব-১৫ কার‌্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতাররা হলেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ক্যাম্প-১০ এর বাসিন্দা নজিব আহম্মদের ছেলে ইউনুস প্রকাশ মাস্টার ইউনুস (৩৭), কুতুপালং ক্যাম্প-৪ এর বাসিন্দা আব্দুল মোতালেবের ছেলে মফিজুর রহমান প্রকাশ মুজিয়া (৩৮), ক্যাম্প-১ ওয়েস্ট এর বাসিন্দা হাসু মিয়ার ছেলে এনায়েত উল্ল্যাহ (২৬) ও ক্যাম্প-৪ এর বাসিন্দা আবদুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ জাবের প্রকাশ আমানুল্লাহ উল্ল্যা (২৭)।

cox

সংবাদ সম্মেলনে এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নাশকতা পরিকল্পনা করছেন একদল দুষ্কৃতিকারী। আগামী জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃংখলা বাহিনী ব্যস্ত থাকার সুযোগে আরসার সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় ধরনের জমায়েত এবং নাশকতা সৃষ্টির জন্য পরিকল্পনা করছিল। পরে র‌্যাব-১৫ একটি দল সোমবার রাতে উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভিযানে যায়। সেখানে পৌঁছে আরসা সন্ত্রাসীদের একটি আস্তানা ঘিরে ফেলা হয়। এসময় আরসার সদস্যরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষায় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। গোলাগুলির এক পর‌্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় আরসার এক কমান্ডারসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

সাজ্জাদ হোসেন আরও জানান, গ্রেফতার আরসা কমান্ডার মাস্টার ইউনুস আরসার হিসাব শাখার প্রধান। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পে বড় ধরনের অস্থিরতা ও নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা ঐ আস্তানায় জমায়েত হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন। তাদের আস্তানা থেকে ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশী পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার গান, দুটি দেশীয় এলজি, চার রাউন্ড বিদেশি পিস্তলের কার্তুজ, পাঁচটি এলজির কার্তুজ, পাঁচটি বড় ককটেল, আটটি ছোট ককটেল, চারটি স্মার্টফোন এবং দুটি পকেট নোটবুক, দুটি হিসাবের খাতা, ৪৪ পৃষ্ঠা হিসাবের খাতা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চারজন আরসা সদস্য পালিয়েছে বলে জানায় তারা।

cox

গ্রেফতারদের সূত্রে তিনি আরও জানান, ক্যাম্পের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে আরসার আধিপত্য বিস্তার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করতে বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টিতে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে তারা আতঙ্ক সৃষ্টি, ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ খুন, অপহরণ, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্রিক বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। তাদের নাশকতায় ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা সবসময় ভীত সন্ত্রস্ত থাকতো। এছাড়া তারা বার্মা হতে দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে অস্ত্র-গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করতো।

র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া) আবু সালাম চৌধুরী জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মামলা করে উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

এর আগে র‌্যাব কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরসার ৭৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

সায়ীদ আলমগীর/এনআইবি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।