চুরির অপবাদে দুই যুবককে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৯:১৫ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৪

কক্সবাজারের চকরিয়ায় চুরির অপবাদে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে জাহেদুল ইসলাম (২২) ও শাহাজাহান (২৮) নামের দুই যুবককে মারধর ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে।

উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড করমুহুরীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনার পর শনিবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে ভুক্তভোগী জাহেদুল ইসলামের স্ত্রী তাহেরা আক্তার মুন্নি (২০) বাদী হয়ে সাতজনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড করমুহুরীপাড়ার মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে বেলাল আহমদ (৪৫), শামসু আলমের ছেলে নেজাম উদ্দিন (৩৮), মনিরুজ্জামানের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৩৫), মৃত নুরুল ইসলাম বাদশার ছেলে আলমগীর (৪০), মৃত কামাল হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৬), ইসরাফিলের ছেলে আব্দুল মালেক (৩২) ও আবদু রশিদের ছেলে ইদ্রিস আহমদ (২৯)। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পূর্বশত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে অভিযুক্তরা বাড়িতে ঢোকেন। পরে কাজ আছে বলে টানাহেঁচড়া করে জাহেদুল ইসলাম ও শাহাজাহানকে বাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে আসেন। এসময় জাহেদুল ইসলামের ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী অভিযুক্তদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেন। একইভাবে শাহাজাহানের স্ত্রী কামরু জান্নাত বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।

জাহেদুল ও শাহাজাহানকে ধরে নিয়ে গিয়ে জনৈক ছগিরার দোকানের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে করমুহুরীপাড়া স্টেশনে নিয়ে আসেন।

দুই যুবককে গলায় জুতা পরিয়ে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেরাজ উদ্দিন মিরাজ।

তিনি বলেন, কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল লোকজন চুরির অভিযোগে তাদের ধরে অমানবিক শাস্তি দিয়েছে। এসময় অভিযুক্তরা তাদের চুল ন্যাড়া করার চেষ্টা করলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্তরা এ দুই যুবককে নির্মাণসামগ্রী চুরির অভিযোগে তুলে ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তাদের কাছে চুরির কোনো মালামাল পাওয়া যায়নি।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, যেটা করা হয়েছে তা অপরাধ। চুরি করে থাকলে তাদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করবে, এটাই নিয়ম। কিন্তু কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোকজন বিচারের নামে আইন লঙ্ঘন করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে।

সায়ীদ আলমগীর/এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।