নওগাঁয় অর্পিত সম্পত্তিতে ইটভাটা : নষ্ট হচ্ছে ফসল


প্রকাশিত: ০৫:৪০ এএম, ০৭ এপ্রিল ২০১৬

নওগাঁর বদলগাছীতে অর্পিত সম্পত্তির উপর পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি ছাড়াই ইটভাটা নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলার খোজাগাড়ীতে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটাটি নির্মাণ করায় প্রায় ৫০টি পরিবার ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে এবং ক্ষতি হচ্ছে লাখ লাখ টাকার ফসলের। ইট ভাটাটি বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন অফিসে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় ভুক্তোভোগীদের।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রহিমপুর গ্রামের মামুনুর রশিদ ২০১১ সালে জুলাই মাসের দিকে খোজাগাড়ী গ্রামে অর্পিত সম্পত্তিতে পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি ছাড়াই প্রায় সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে সততা ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা নির্মাণ করেন। এ
ইটভাটার কারণে আম বাগান, কলা বাগান, পটল, বেগুনের ক্ষেতসহ কৃষি জমির ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবেশ দূষণে জনস্বাস্থ্য হুমকির মূখে রয়েছে। ভাটাটি বন্ধ করার জন্যে গ্রামের মকবুল হোসেন স্থানীয় জনসাধারণের পক্ষে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদফতর বিভাগীয় অফিস বগুড়ায় লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

খোজাগাড়ী গ্রামের আব্দুল জলিল, বুদুন ও আবু রায়হান জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ছাই এসে তাদের ঘরবাড়ীতে পড়ে। আর এতে করে পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধসহ সবার অসুবিধা হয়। ঘরের মধ্যে বিছানা, জামা-কাপড় সব কিছু নোংরা হয়ে যায়।

গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও আব্দুর রশীদ জানান, ইটভাটার ছাই এসে জমির বেগুন, পটল, ঝিঙ্গা, শিমের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রতি বছর লোকশান গুণতে হচ্ছে।
 
naogaon

অভিযোগকারী মকবুল হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন অফিস থেকে এসে তদন্ত করে এর সত্যতা পাওয়ার পরও রহস্যজনকভাবে ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। একারণে ভাটার পাশে থাকা তাদের প্রায় সাড়ে ১০ বিঘা আমের বাগানের কোনো আম বিক্রি করতে পারেন না। ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে তাদের আম বাগানের সমস্ত আম পচে নষ্ট হয়ে যায়।

সাবেক ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ এসে ইটভাটা বন্ধ ও ভেঙে ফেলার কথা বলে গেলেও পরবর্তীতে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এতে ভাটার পাশে থাকা ৪০/৫০টি পরিবারের ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার্থে ইট ভাটাটি ভেঙে ফেলার দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপরে সততা ব্রিকস এর মালিক মামুনুর রশীদের পার্টনার হাফিজুর রহমান জানান, সে সময় অনেকের মতো তিনিও পরিবেশের অনুমতি না নিয়ে ইটভাটা নির্মাণ করেন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরকার অর্পিত সম্পত্তিতে ভাটা বন্ধের নির্দেশ দেন। ভাটাটি বন্ধ বা না ভাঙার নির্দেশ স্থগিতের জন্যে নওগাঁর একটি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর বাদীরা স্থগিতের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি রিট করলে ভাটাটি ভেঙে ফেলার জন্য তাদের পক্ষে রায় দেন আদালত। তবে আগামী ২২ মে ভাটাটি বন্ধ বা না ভাঙার নির্দেশ স্থগিতেদর উপর একটি তারিখ আছে। তাদের বিপক্ষে রায় গেলে আবারও মামলা দায়ের করবেন বলে জানান তিনি।

অপরদিকে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন শওকত জানান, বাদি ও এলাকাবাসীদের অভিযোগ সত্য নয়। ওই ইটভাটা নিয়ে আদালতে মামলা মোকদ্দমা থাকায় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়নি। আগামী ২২ মের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

আব্বাস আলী/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।