বিলুপ্ত ছিটমহলে শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর দাবি
সদ্য বিলুপ্ত ১১১টি ভারতীয় ছিটমহলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার সমন্বয় কমিটি বাংলাদেশ ইউনিটের আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড় শেরে বাংলা পার্ক মোড়ের পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকাল ১১টা থকে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহল ছাড়াও কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারি জেলার বিলুপ্ত বিভিন্ন ছিটমহলের কয়েক হাজার নারি-পুরুষসহ চার জেলার ছিটমহল এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা অংশ নেন।
এ সময় নাগরিক অধিকার সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের নেতারা বলেন, গত বছরের ৩১ জুলাই ছিটমহল বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছরায় এক জনসভায় ১১১টি ছিটমহলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেন। কিন্তু দীর্ঘ নয় মাসেও সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন হয়নি।
মানববন্ধন শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্বারকলিপি দেন। স্বারকলিপিতে দেশের ১১১টি বিলুপ্ত ছিটমহলের বিভিন্ন এলাকায় সদ্য প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় মঞ্জুরি ও পাঠদানের অনুমতি প্রদান, শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিও ভুক্তিকরণ ও সকল শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদানের দাবি জানানো হয়।
নাগরিক অধিকার সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের নেতা ও বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহলের সাবেক চেয়ারম্যান মফিজার রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলিত ছিটমহলের শিশুরা শিক্ষাব্যাবস্থা থেকে বঞ্চিত ছিল। ছিটমহল বিনিময়ের পর দেশের চলমান শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বিলুপ্ত ছিটমহলের শিশুদের পাঠদানের প্রয়োজনে পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলে চারটি কলেজসহ ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। এছাড়া লালমনিরহাটে ৯টি, কুড়িগ্রামে ৮টি এবং নীলফামারিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের অনুমতিসহ সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়নি।
মানবন্ধনে নাগরিক অধিকার সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের আহ্বায়ক মো. মইনুল হক, বিলুপ্ত শালবাড়ি ছিটমহলের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, গারাতি ছিটমহলের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মফিজার রহমান, পুঠিমারি ছিটমহলের সাবেক চেয়ারম্যান তছলিম উদ্দিন ও লালমনিরহাট জেলার হাফিজউদ্দিনসহ নাগরিক অধিকার সমন্বয় কমিটির অন্যান্য নেতারা বক্তৃতা করেন।
সফিকুল আলম/এফএ/পিআর