পঞ্চগড়ের অমরখানা সীমান্তে দুই বাংলার মিলন মেলা


প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৬

ভৌগোলিক সীমারেখার বেড়াজালে বন্দি দুই বাংলার মানুষ চান স্বজনদের সান্নিধ্য। আত্মার সুতোয় বাঁধা ভারত-বাংলাদেশের এসব বাঙালি সুযোগ পেলেই মিশে যান একে অন্যের সঙ্গে। নববর্ষ উপলক্ষে প্রতি পহেলা বৈশাখে পঞ্চগড়ের অমরখানা সীমান্তে অনুষ্ঠিত হয় এই মিলন মেলা। কিন্তু এবার একদিন পূর্বেই বুধবার চৈত্র সংক্রান্তির দুপুর থেকে শুরু হয় মিলন মেলা।

দীর্ঘদিন পর আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে পঞ্চগড় এবং আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শণার্থীরা জড়ো হতে থাকে সীমান্তের উভয় পাশে। দুপুর হতে না হতেই কাটাতারের উভয় পাশে জড়ো হয় দুই বাংলার লাখো মানুষ। প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুরু হয় মিলন মেলা।

বেড়ার দু’পাশে দুই দেশের নাগরিক হলেও জাতিতে তারা এক। এরা সবাই বাঙালি। একে অন্যের আত্মীয়। দীর্ঘদিন পর কাছের মানুষদের দেখতে পেয়ে তারা ভূলে যান সীমান্তের কাটাতারের বেড়া। বেড়ার ফাঁক গলিয়ে একে অন্যের হাত ধরেন, কথা বলেন। বিনিময় করেন নানান উপহার সামগ্রী। কেউ আবার কেঁদে ফেলেন আবেগে। বিজিবি এবং বিএসএফের সহযোগিতায় সন্ধার পূর্ব পর্যন্ত চলে এ মেলা।

বুধবার সকালে সরেজমিন অমরখানা সীমান্তে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই নানান বয়সের মানুষ আসতে থাকে। দুপুরের প্রখর রোদ উপেক্ষা করে লাখো মানুষ অপেক্ষা করতে থাকে স্বজনদের এক নজর দেখতে। ওই সীমান্তের ৭৪৩, ৭৪৪ ও ৭৪৫ নং মেইন পিলার ঘেঁষে প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দেখা যায় শুধুই মানুষের ঢল। পরিণত হয় দুই বাংলার স্বজনহারা মানুষদের মিলনস্থলে।

দর্শণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানান বয়সী অসংখ্য মানুষ মিলন মেলায় অংশ নেন। ভারতের শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং জেলাসহ কোচবিহার এলাকার লোকজন আসেন।

"
ঠাকুরগাঁও জেলার গড়েয়া এলাকার সুশীলা দেবী (৫৫) বলেন, ভারতের শিলিগুড়ির বৌবাজার এলাকায় আমার দুই ছেলে শৈলেন ও সুবোধ বসবাস করে। তাদের সঙ্গে গতবারও দেখা করতে পারিনি। এবার সকাল সকাল এসে থেকে অপেক্ষা করে তাদের দেখা পেয়েছি। অনেকদিন পর ছেলেদের দেখে কান্না আটকাতে পারিনি।

তেঁতুলিয়া সদরের কলেজছাত্রী তনুশ্রী রায় বলেন, ভারতের দার্জিলিং এলাকায় আমার মামা থাকেন। প্রতিবছর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মামা এবং মামাতো ভাইবোনের সঙ্গে দেখা করি। এবারো একই কারণে সীমান্তে এসেছি। আশা করি দেখা হবে।

পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আবু নাঈম মো. সালাহ উদ্দীন বলেন, প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে বিজিবি ও বিএসএফের অনুমতিক্রমে এই মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবার একদিন আগেই সীমান্তের উভয় পাশে একত্রিত হয় দুই দেশের নাগরিকরা। তারা হয়তো মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলেছে। পরে ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাটাতারের দুই পাশে দুই দেশের মানুষদের দেখা করার সুযোগ করে দেয়া হয়।

সফিকুল আলম/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।