নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শরীয়তপুরের ইটভাটায় শিশুশ্রমিক


প্রকাশিত: ০৫:৩২ এএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৬

শরীয়তপুরের ইটের ভাটাগুলোতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিশুকে শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে। যে বয়সে তাদের বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সে তারা ইটের ভাটায় শ্রম বিক্রি করছে। সরকার শিশুশ্রম বন্ধে আইন এবং সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত রাখলেও শরীয়তপুরে শিশুশ্রম বেড়েই চলেছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে সংঘটিত হলেও প্রশাসনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শরীয়তপুরের প্রত্যেকটি ইটের ভাটায়ই কমবেশি শিশুশ্রমিক রয়েছে। শরীয়তপুরে ৩৯টি ইটের ভাটা রয়েছে। তার মধ্যে নড়িয়া, জাজিরা এবং গোসাইর হাটে যে সকল ইটের ভাটা রয়েছে সে সকল ইটের ভাটায় শিশুশ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি।

এ ব্যাপারে কয়েকজন শিশুশ্রমিকের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেলো, তারা প্রতি বছরই এই ইটের ভাটায় কাজ করে। প্রতিদিন তাদেরকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে দেয়া হয়। সপ্তাহে তারা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পাই।

Etar-Vata

তবে শিশুদেরকে দিয়ে ভাটায় কাজ করানোর অভিযোগ অস্বীকার করে কয়েকজন ভাটা মালিক বলেন, আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদেরকে দিয়ে কাজ করাই না। আমাদের ভাটায় যে সকল শ্রমিক রয়েছে তারা আমাদের জেলার নয়। তারা অন্য জেলা থেকে এসে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই এখানে কাজ করেন। সেখানে তাদের সন্তানদেরকে তো আর রেখে আসে না। তাই তাদের সন্তানরা মা-বাবাকে সহযোগিতা করছে। তবে এ জন্য তাদেরকে আমরা কোনো পারিশ্রমিক দেই না।

এ ব্যাপারে ইট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি বাবুল বেপারী বলেন, আমরা কোনো শিশুকে দিয়ে কাজ করাই না। যদি কোনো ইটের ভাটায় কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয় তাহলে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।