`ব্যাক বেঞ্চারের’ ঈদ বাজারে ৩৫০ পরিবারে স্বস্তি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০২:০২ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০২৪

যশোরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সুলভ ঈদ বাজারে অর্ধেক মূল্যে পণ্য বিক্রি করেছে সামাজিক সংগঠন ‘ব্যাক বেঞ্চার’।

শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়কের পাশে বসে অস্থায়ী এ বাজার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে স্বল্প আয়ের মানুষদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এসএসসি ১৯৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়া সামাজিক সংগঠন ‘ব্যাক বেঞ্চার’ এ ঈদ বাজারের আয়োজন করেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্যাক বেঞ্চার’ এর সদস্য সংখ্যা ১৯ জন। সদস্যরা কেউ চাকরিজীবী কেউবা ব্যবসায়ী। সদস্যদের চাঁদার টাকা দিয়ে চলে নানামুখী স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড।

সংগঠনটি মূলত দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, সামাজিকভাবে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড করে আসছেন।

করোনাকালে সংগঠনটির সদস্যরা অক্সিজেন সেবা, খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মধ্যে দিয়ে মানুষের পাশে থেকেছেন। স্বেচ্ছাসেবার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে সংগঠনের সদস্যরা এবারে সিদ্ধান্ত নেন দরিদ্র, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিবেন। এজন্য যারা সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্য আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদ বাজারের ব্যবস্থা করেছেন তারা।

সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যশোর শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় জরিপ চালিয়ে সাড়ে ৩৫০ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে শনাক্ত করেন তারা। তাদেরকে ঈদে দরকারি এমন ৮২৭ টাকা মূল্যের ৯টি পণ্য অর্ধেক মূল্যের চেয়ে কমে মাত্র ৪০০টাকায় দেওয়া হয়।

শুক্রবার দুপুরে অস্থায়ী এ ঈদ বাজারে গিয়ে দেখা যায় নতুন বাজার প্রাঙ্গনে নারী-পুরুষের লম্বা লাইন। বিভিন্ন পণ্যের স্টলও রয়েছে। ওই সব স্টলের টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে পণ্য। ক্যাশ কাউন্টারে পণ্যের দাম পরিশোধ করে একটি স্লিপ নিয়ে লাইন থেকে একে একে স্টলে গিয়ে পছন্দের পণ্য বেছে নিচ্ছেন।

মনিহার এলাকা থেকে বাজার করতে আসা প্রতিবন্ধী আলমগীর হোসেন জানান, রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। জিনিসপত্রের এখন যে দাম, সংসার চালানো কঠিন। এর মধ্যে রোজা ঈদ উপলক্ষে সকল পণ্যের দাম আরোও বেড়েছে। চিন্তাতে ছিলাম ঈদে কিভাবে কী করবো। এ বাজার থেকে অর্ধেক দামে জিনিসপত্র কিনতে পেরে ঈদের আগেই আনন্দ পেলাম।

আমেনা খাতুন শহরের একটি বাসা বাড়িতে কাজ করেন। তিনিও এসেছেন ‘ব্যাক বেঞ্চার’ সুলভ ঈদবাজারে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘বাজারে যে জিনিসের দাম বাড়ছে। কম দামে পণ্য পেয়ে আমার মতো গরিব মানুষের অনেক উপকার হইছে। এ সংগঠনের মতো আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলে এ অঞ্চলের গরিব মধ্যবিত্তদের খুব উপকার হতো।’

বাজার করতে এসে ষাটোর্ধ রিকশা চালক আরশাদ গাজী বলেন, ‘৯ রকমের জিনিস কিনেছি। এত কম দামে বাজার পাবো স্বপ্নেও ভাবিনি। এ ৯ পণ্যের বাজার দর ৮০০ টাকার বেশি। তবে আমি কিনেছি ৪০০ টাকায়। এর মধ্যে পোলাও চাল, তেল মুরগিও রয়েছে। এমন কাজের জন্য এ সংগঠনের জন্য দোয়া ছাড়া কিছু করার নাই আমাদের।’

সংগঠনটির সভাপতি জাকিউল ইসলাম পিংকু জাগো নিউজকে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের যে উর্ধ্বগতি, এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা কষ্টে আছে। তারা কষ্টে থাকলেও কারোও কাছে হাত পাততে পারেন না। তাদের জন্য আমাদের এ বাজার। তারা যেন ঈদের দিন পরিবার নিয়ে ভালো থাকতে পারে সেজন্যই আমাদের এ আয়োজন।’

সংগঠনটির উপদেষ্টা শাহনেওয়াজ আনোয়ার লেনিন বলেন, ‘বাজারমূল্যের যে অর্ধেকদামে আমরা ৯টি পণ্য বিক্রয় করছি। ঈদের দিন অসহায় ও মধ্য আয়ের মানুষরা দ্রব্যমূল্যের কারণে কাঙ্ক্ষিত ঈদ বাজার করতে পারেন না। পোলাও মাংস খেতে পারেন না। তাদের কথা মাথায় রেখেই আমরা মুরগির মাংস, পোলাও চালসহ দরকারি ৯টি পণ্য পর্যপ্ত পরিমাণে তাদের কাছে কমমূল্যে বিক্রয় করছি। যাতে তারা আনন্দের সঙ্গে ঈদটা করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে আমরা নিজেদের উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে একবেলার খাবারের আয়োজন শুরু করি। পরে অনেক ভালো মনের মানুষ আমাদের সংগঠনটিতে যুক্ত হচ্ছেন। এছাড়া অনেক দানশীল ব্যক্তির সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্যাক বেঞ্চার’ কার্যক্রমে খুশি স্থানীয়রাও। এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে আইনজীবী শহীদ আনোয়ার জানান, ‘ব্যাক বেঞ্চার’ দীর্ঘদিন ধরে আরএন রোড এলাকায় ভালো কাজ করে আসছে। এখন তো যুবকদের ভালো কাজের সঙ্গে দেখা মিলে না। যে যার কাজে ব্যস্ত। কিন্তু এসব যুবকরা নিজের সময় শ্রম অর্থ দিয়ে সমাজের হতদরিদ্র মানুষের জন্য যে কাজ করছে সেটা সমাজের দৃষ্টান্ত। এদের মতো পাড়ায় পাড়ায় এমন সংগঠন গড়ে উঠলে সমাজে এতো বৈষম্য থাকতো না। ধনী গরিবের মধ্যে এতো ভেদাভেদ দূরত্ব সৃষ্টি হতো না।’

মিলন রহমান/এনআইবি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।