ঈদ পরবর্তী যাত্রা

ভাড়ার ৩ গুণ বেশি দিয়েও মিলছে না টিকিট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৩:৪২ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

গার্মেন্টস কর্মী মোছা. তানজিনা বেগম (২০)। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে এসেছিলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে। আবারও কর্মস্থলে ফিরতে টিকিট কাটতে এসেছেন পূর্ব বাইপাস মোড়ে বাস কাউন্টারে। সঙ্গে ছিলেন গার্মেন্টস কর্মী স্বামী মো. ছাইদুর রহমানও। কোলে শিশু নিয়ে স্বামীসহ ছুটছেন এ কাউন্টার থেকে ও কাউন্টারে। এসময় জান্নাত পরিবহন কাউন্টারে কথা হয় তাদের সঙ্গে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় টিকিট বিক্রি হচ্ছে। তবুও বুধ বা বৃহস্পতিবারের কোনো টিকেট নেই।’

তানজিনার স্বামী বলেন, ‘অন্য সময় এ টিকিটের দাম নেওয়া হতো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ঈদ শেষ হয়েছে পাঁচ দিন আগে। বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। কিন্তু করার কিছুই নেই। চাকরি হারানোর ভয় আছে। সে কারণে ঢাকা যেতেই হবে।’

টিকিট না পেয়ে সোনালী পরিবহন কাউন্টার থেকে বের হচ্ছিলেন মো. আবদুল কুদ্দুস মিয়া (১৮)। তারাপুর ইউনিয়নের চর খোর্দা গ্রামে তার বাড়ি। সঙ্গে ছিলেন তার আরও ৪ বন্ধু। টিকিট দরকার পাঁচটি। পেয়েছেন একটি। তাও পেছনের আসন। টিকিট না পাওয়ায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলেন তারা। এসময় কথা হয় তাদের সঙ্গে।

তারা বলেন, 'সোনালী পরিবহন, মিথিলা পরিবহন, জান্নাত পরিবহন ও অর্পণ স্পেশালসহ সব কাউন্টারে খুঁজেছি। আজকের টিকিট কোথাও নেই। দুইদিন পরে নিতে হবে। ভাড়া রাতে এক হাজার ৩০০ টাকা আর দিনে এক হাজার ৪০০ টাকা। এর কমে কেউ টিকিট বিক্রি করছেন না।’

গাইবান্ধা বাস টার্মিনালে ঢাকাগামী আরেক যাত্রী মো. আয়নাল হোসেন বলেন, ‘বেতন পেয়েছি দশ হাজার। যাতায়াত করতে প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বাড়িতে পরিবার নিয়ে আনন্দ করতে এসেছিলাম। যাতায়াত করতেই টাকা প্রায় শেষ। বাস ভাড়ায় এরকম নৈরাজ্য থাকলে আগামী ঈদে বাড়িতে নাও আসতে পারি।’

গার্মেন্টস কর্মী মোছা. মনজিলা বেগম বলেন, ‘টিকেট পেয়েছি। চৌদ্দশ টাকা নিয়েছে। বলেছিলাম এতো বেশি ক্যান। হ্যায় আমারে বলে নিলে নেন না নিলে নাই গা। জোরজুলুম করে বেশি টাকা নিচ্ছে। আমরা নিরুপায়।’

বুধবার (১৭ এপ্রিল) যাত্রী সেজে টিকিট কিনতে জাগো নিউজের প্রতিনিধি এ যান জান্নাত পরিবহনের কাউন্টার মাস্টারের কাছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের কোনো টিকিট নেই। শুক্রবারের দিতো পারবো। ভাড়া কতো জানতে চাইলে বলেন- তেরশো চৌদ্দশ করে বিক্রি করছি। কমে দিতে পারবো না। ভাড়া বেশির কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি একাই বেশি নিচ্ছি না। সবাই নিচ্ছে। আর ঈদের কারণে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। চাপ কমলে আবারও ৪০০/৫০০ টাকায় নেমে আসবে।’

তবে অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না বাস, মাইক্রোবাস ও কোচ শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি আশরাফুল আলম বাদশা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি জানা নেই। এটি চরম অন্যায়। খোঁজ নিচ্ছি। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাউন্টারের আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, এ নৈরাজ্য দীর্ঘদিনের। ঈদ বা পূজা এলেই বাস মালিকরা এক হয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করেন। দেখার কেউ থাকে না। সে কারণে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে তিনগুণ বেশি দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হন।

এএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।