‘ভোট করলে ক্ষেতের ধান বাড়িতে যাবে না’
`ভোট করলে ক্ষেতের ধান বাড়িতে যাবে না। এসমন হুমকিতে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন যশোরের ঝিকরগাছার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী ও যুবদল নেতা জামির হোসেন। একই হুমকির মুখে রয়েছেন একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী শাহজাহান আলী।` সোমবার বেলা ১১টায় প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
বিএনপি নেতারা দাবি করেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য অপহরণ করা হয়েছিল গদখালি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনির হোসেনকে। শুধু এ তিনজনই নয়, গোটা ঝিকরগাছা উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ও মনোনীত সব প্রার্থীই এমন হুমকি ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। আগামী ৭ মে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন সন্ত্রাস চালানোয় উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও মেম্বার প্রার্থীরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে এখন আত্মগোপনে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোর্তুজা এলাহী টিপু অভিযোগ করেন, ১৮ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর আগে ১৬ এপ্রিল ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী খোরশেদ আলমকে উপজেলা ট্রাক মালিক সমিতি কার্যালয়ে শাসক দলের সন্ত্রাসীরা আটকে রাখে। পরে স্থানীয় নেতাদের সহায়তায় তিনি বাড়ি ফেরেন। কিন্তু মারধরের হুমকিতে তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, ঝিকরগাছা উপজেলার সকল ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে ক্ষমতাসীনরা চাপ সৃষ্টি করছে। সন্ত্রাসীরা প্রার্থীদের মারধর ও অপহরণ করছে। কিন্তু প্রার্থীরা থানায় এ সব নিয়ে অভিযোগ করতে পারছে না। কারণ ঝিকরগাছা থানার গেটে আওয়ামী লীগের একটি চক্র পাহারা বসিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনীর আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুণ অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক চেয়ারম্যান প্রার্থী খোরশেদ আলম প্রমুখ।
এদিকে, বিএনপির এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা খবির আহম্মেদ বলেন, তাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। বিএনপির কোনো নেতা তাদের কাছে এমন অভিযোগ করেনি।
এসমনকি বিএনপির দাবি অনুযায়ী থানায় ক্ষমতাসীনদের একটি সিন্ডিকেট বসে থাকে এমন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন ওসি খবির আহম্মেদ।
মিলন রহমান/এফএ/এবিএস