রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ ১০ ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি আইএলএফের


প্রকাশিত: ১১:৩৫ এএম, ০২ মে ২০১৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ ১০ বিশিষ্টজনকে কিলিং মিশনের তালিকা দিয়ে নাটোর প্রেসক্লাবে চিঠি দিয়েছে আইএলএফ নামের একটি সংগঠন। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ডাকপিয়ন চিঠিটি দিয়ে যায়।

ইসলামী লিবারেশন ফ্রন্ট (আইএলএফ) বাংলাদেশ এর প্যাডে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে। আমাদের কিলিং মিশনে যারা আছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়রে বর্তমান ভিসি, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ, সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, সাংবাদিক শিবলী নোমান, সাংবাদিক আনু মোস্তফা, সাংবাদিক কাজী শাহেদ, মুক্তিযোদ্ধা বরজাহান আলী শাহজাহান, দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলী ও দৈনিক শানসাইন পত্রিকার সম্পাদক ইউনুস আলী।

IFLএছাড়া চিঠিতে তাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও আহ্বান উল্লেখ করে লেখা আছে, ০১। ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা ০২। বাংলাদেশের সংবিধানে আল­্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন ০৩। জিহাদে সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ ০৪। জালেম সরকারের পতন ঘটান ও আইএলএফ-এর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হোন ০৫। সাংবাদিক ভাইয়েরা আমাদের সাংগঠনিক কাজে সহযোগিতা করুন ০৬। ইসলাম রক্ষায় এগিয়ে আসুন ০৭। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান ০৮। দারিদ্র মুসলমানদের পাশে দাঁড়ান ০৯। পবিত্র কোরআন শরীফের পক্ষে থাকুন ও ১০। দেশের সকল ইসলামী চিন্তাবিদদের মুক্তির সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হোন।
 
নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা জানান, পোস্ট অফিসের পিওন এসে প্রেসক্লাবের পিওনের কাছে চিঠিটি দিলে ক্লাবের পিওন সেটি ক্লাবের চিঠির ফাইলে রেখে দেয়। পরে বেলা দুইটার দিকে সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকার এসে চিঠিগুলো দেখার সময় এটি নজরে আসলে তিনি সকল সাংবাদিককে অবহিত করেন। পরে বিষয়টি নাটোরের পুলিশ সুপারকেও জানানো হয়।
 
রাজশাহীর কোনো এক পোস্টঅফিস থেকে আইএলএফ রাজশাহী শাখা নামে বুকিং দেয়া বাঁশপাতার খামে পাঁচ টাকার ডাকটিকিট লাগানো কম্পিউটার কম্পোজ করা চিঠিটি সভাপতি/সম্পাদক নাটোর প্রেসক্লাব বরাবর পাঠানো হয়।
 
এ ব্যাপারে নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা বলেন, চিঠিটা পাওয়ার পর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী বলেন, বিষয়টি আমরা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অবহিত হয়েছি। তবে চিঠিতে সুনির্দিষ্ট কোনো নাম ঠিকানা না থাকায় বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা জঙ্গী গোষ্ঠি তাদের স্বার্থ হাসিল করতে এ ধরনের অপকর্ম চালাতে পারে। জনগনের জানমালের নিরাপত্তা প্রদানে পুলিশ সব সময় সজাগ আছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ ঘটনার কারণ উদঘাটন ও ব্যবস্থা নিতে সচেষ্ট আছে।
 
এদিকে, এই চিঠি পাওয়ার ঘটনায় তালিকায় নাম থাকা রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী শাহেদ বলেন, এ বিষয়টিতে আমরা মোটেও আতঙ্কিত নয়। একটা বিশেষ মহল যারা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চায় তারা আতঙ্ক ছড়াতে এ ধরনের চিঠি বিতরণ করে বেড়াচ্ছে।

রেজাউল করিম রেজা/এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।