মানিকগঞ্জে গ্রামবাসীর হামলার শিকার আ.লীগ নেতারা


প্রকাশিত: ০৪:১১ এএম, ০৫ মে ২০১৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালানোর সময় গ্রামবাসীর পাল্টা হামলার শিকার হয়েছেন আ.লীগ নেতারা। এসময় বিদ্রোহী প্রার্থী ওবায়দুর রহমানসহ তার পরিবারের ৪ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পাল্টা হামলায় কয়েকজন আ.লীগ নেতাকে মারধর করেছে গ্রামবাসী।

এসময় আ.লীগ নেতাদের ব্যবহৃত ৩টি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে আ.লীগ নেতা আফসার সরকার, ছাত্রলীগ নেতা মানিকসহ ৩ জনকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ওবায়দুরের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সুলতানুল আজম আপেল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফছার সরকার, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি মোনায়েম খান, জেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক তুষার ও জেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি বাবুল সরকারসহ ২০/২৫ জন নেতা-কর্মী ৪টি মাইক্রোবাস করে ওবায়দুরের বাড়িতে প্রবেশ করেন।

তারা ওবায়দুরকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করার প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে তর্কবির্তকের এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা ওবায়দুরকে মারধর করেন। এসময় ওবায়দুরের ভাই ও স্ত্রী এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। পরে তাদের চিকিৎসারে গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে এলে গাড়ি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এসময় একটি মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে উল্টে গেলে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফছার সরকার ও যুবলীগ নেতা আবু বকর সিদ্দিক তুষারসহ কয়েজনকে ধরে মারধর করে গ্রামবাসী।

উল্টে যাওয়া মাইক্রোবাসটি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের মালিকানাধীন সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর। খবর পেয়ে প্রথমে সাটুরিয়া ও সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলে গ্রামবাসী তাদের উপরও চড়াও হন।

পরে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসাইন, সদর সার্কেলের এএসপি, ডিবির ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীকে শান্ত করে আওয়ামী লীগ নেতাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

আহত আফসার সরকার জানান, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় তাদের গাড়িটি রাস্তার পাশে উল্টে গেলে তারা আহত হন। এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুরের লোকজন তাদের উপর হামলা চালিয়েছে।

বিদ্রোহী প্রার্থী ওবায়দুর রহমান জানান, তিনিসহ তার পরিবারের আহত সদস্যরা স্থানীয় চিকিৎসা নিয়েছেন। পুনরায় হামলার ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে সাহস পাননি তারা।

পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, বিষয়টি নির্বাচনী সহিংসতা। বিস্তারিত জেনে পরে সংবাদ বিফ্রিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।

খোরশেদ/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।