দিনাজপুরে লিচু বাগানে এক লাখ নারীর কর্মসংস্থান


প্রকাশিত: ০৫:২৪ এএম, ১১ মে ২০১৬

শুরু হয়েছে লিচুর মৌসুম। বাগানিরা তাদের বাগানের লিচু ভাঙতে শুরু করেছেন। দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার লিচুর বাগানে কমপক্ষে এক লাখ নারীর এক মাসের কর্মসংস্থান হয়েছে।

জানা গেছে, ৯ মে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসংস্থান চলবে আগামী মাসের ১১ জুন পর্যন্ত। সংসারে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা গড়ে ২৫০ টাকা করে এক মাসে সাড়ে ৭ হাজার করে টাকা আয় করবে। সঙ্গে তারা পরিবারের খাবার জন্য পাবে পর্যাপ্ত লিচু।

Dinaspur

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার মাটি ও জলবায়ু লিচু উৎপাদনে উপযোগী হওয়ায় দিনাজপুরে লিচু চাষে রীতি মতো বিপ্লব ঘটেছে। দিনাজপুরে ৪ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৮টি বাগানে ৬ লাখ ৪৫টি গাছে লিচু উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ২২৭ মেট্রিক টন।

লিচু চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিনাজপুরে বাগানগুলোতে লিচু ভাঙা শুরু হয়েছে। এই বাগানগুলোতে নারীরা লিচু বাছাই ও বাঁধার কাজ করছে। একেকটি বাগানে ১৫ থেকে শুরু করে ৩০ জন পর্যন্ত নারী কাজ করছে। যারা গড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫০ টাকা করে মজুরি পেয়ে থাকে। এতে নারীরা সংসারের কাজের পাশাপাশি লিচু বাছাই করে কমপক্ষে সাড়ে ৭ হাজার টাকা আয় করবে। যা তাদের বাড়তি চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।

Dinaspur

লিচু চাষী ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, লুৎফর রহমান, জাকির হোসেন জানান, লিচুর এই মৌসুমে কমপক্ষে ১ লাখ নারীর ১ মাসের কর্মসংস্থান হয়ে থাকে।

সদর উপজেলার মাসিমপুর এলাকায় লিচু বাগানে কাজ করতে আসা শাহানারা, মৌসুমী, ছাবিয়া, মর্জিনা, সুমি, জাহেদা জানায়, এই কাজ তারা প্রতি বছর করে থাকে। সংসারের কাজের পাশাপাশি তারা এই কাজ করে থাকে। তারা সকাল ৯টার সময় আসে আর দুপুর ২টার দিকে কাজ শেষ করে চলে যায়। বিকেলে লিচু ভাঙলে বাগানিরা খবর পাঠায় বা মোবাইলে জানালে তারা বিকেলে এসে কাজ করে।

Dinaspur

এ ব্যাপারে দিনাজপুর কৃষি অধিদফতরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, গত ৪/৫ বছর ধরে নারীরা লিচুর বাগানে কাজ করছে। নারীদের মজুরি কম হওয়ায় এবং তাদের কাজ পরিচ্ছন্ন হওয়ায় বাগানি ও ব্যবসয়ীরা নারী শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাতে বেশি আগ্রহী।

এমদাদুল হক মিলন/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।