জ্বালানি সংকটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সংখ্যা কমাচ্ছে ভিয়েতনাম-মিয়ানমার
জেট জ্বালানির সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলর যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশ দুটির সরকার।
ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী মাস অর্থাৎ বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে জাতীয় বিমান সংস্থা প্রতি সপ্তাহে প্রায় দুই ডজন অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট স্থগিত করবে।
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর থেকে বিশ্বজুড়ে জেট জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, ১ এপ্রিল থেকে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স সাময়িকভাবে কয়েকটি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করবে। এতে প্রতি সপ্তাহে মোট ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হবে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিমান জ্বালানি (জেট এ-১) সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলোকে জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে ফেলেছে। এ কারণেই ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রধান অভ্যন্তরীণ রুট ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু রাখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক রুটে অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ আরোপের বিষয়েও কাজ করছে ভিয়েতনামের বিমান সংস্থাগুলো।
সম্প্রতি ভিয়েতনাম কাতার, কুয়েত, আলজেরিয়া ও জাপানসহ কয়েকটি দেশের কাছে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে। পাশাপাশি সোমবার (২৩ মার্চ) রাশিয়ার সঙ্গে উভয় দেশে তেল ও গ্যাস উৎপাদন সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশটি।
এদিকে, একই অঞ্চলে মিয়ানমারের জাতীয় বিমান সংস্থা রোববার (২২ মার্চ) জানিয়েছে, ‘অপরিহার্য পরিস্থিতির’ কারণে তারাও কিছু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করবে, যদিও বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স গত সপ্তাহে জানিয়েছে, জেট জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা তাদের ফ্লাইট সক্ষমতা কমাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
সূত্র: এএফপি
এসএএইচ