কাঠমিস্ত্রি রিপন পেল জিপিএ ৫


প্রকাশিত: ১২:০১ পিএম, ১১ মে ২০১৬

সম্পদ বলতে বসতবাড়ির ৬ শতক জমি ছাড়া তাদের আর কিছুই নেই। তাই সংসার চালাতে বাবার সঙ্গে প্রায়ই তাকে কাজ করতে হয় অন্যের কৃষি জমিতে। এমনকি কৃষিকাজ না পেলে মাঝে মাঝে কাঠমিস্ত্রির কাজও করে সে। কিন্তু তারপরও এই নিষ্ঠুর দারিদ্রতা তাকে দমাতে পারেনি। ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সে জিপিএ গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

গল্পটা ছিল রাজবাড়ীর রিপন মাহমুদের। এবার সে রাজবাড়ী মৃগী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে এসএসসি পাশ করেছে। আর এতেই আনন্দে আত্মহারা রিপনের অভিভাবক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।

রিপন মাহমুদ জেলার কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউপির মো. ইউনুছ আলীর ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার বড়। ছোট দুই বোনের একজন এবার জেএসসি পরীক্ষার্থী ও অপরজন ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী।

রিপন শিক্ষা জীবনের ১ম স্তরেই ২০১০ সালের পিএসসি পরীক্ষাতয় ট্যালেন্টফুলে বৃত্তি পায়। সেই থেকে শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগী কিছু এলাকাবাসীর নজরে আসে সে। শিক্ষা জীবনের ২য় স্তরে অর্থের অভাবে পড়া লেখায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও পিছিয়ে যায়নি সে। শিক্ষক, সহপাঠী, এলাকাবাসী ও অন্যন্যেদের সহযোগিতায় ২০১৩ সালের জেএসসি পরীক্ষাতেও ট্যালেন্টফুলে বৃত্তি পায়। আর এর ফলে তার পড়াশুনার একটু সুবিধা হওয়াতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে রিপন।

ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে রিপন বলে, সে অনেক কষ্টে পড়ালেখা করেছে, এর মূল্য সে বোঝে। আর তাই সমাজের শিক্ষানুরাগীদের প্রতি তার একটাই অনুরোধ তারা যেন তার মত হতদরিদ্র ছাত্রদের পাশে দাঁড়ায়।

রিপনের বাবা ইউনুছ আলী আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, "আমার ছেলে পরীক্ষায় ভালোভাবে পাশ করেছে। এতেই আমরা খুশি। রিপনকে আমি শুধু বাড়িতে থাকতে আর একটু খেতে দিতে পেরেছি। তার পড়াশুনার ব্যাপারে তেমন কোনো সহযোগিতা করতে পারিনি। এত কিছু করেও সে যে এতটা ভালো ফল করবে সেটা আমি ধারণা করিনি।

তিন রিপনকে আরো পড়াতে চান। কিন্তু উচ্চশিক্ষা গ্রহণে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই সমাজের বৃত্তবানদের কাছে রিপনের পড়াশুনা চালিয়ে যেতে একটু সহযোগিতা কামনা করেছেন তার বাবা।

মৃগী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাজাহান আলী জানান, আমার বিদ্যালয় থেকে এবার ৫ জন গোল্ডেন প্লাস পেয়েছে। রিপন তাদের একজন। সৃজনশীল মেধা বিকাশে ঢাকা বিভাগেও প্রথম হয়েছিল রিপন। ওকে একটু সহযোগিতা করতে পারলেই ওর কাছ থেকে অনেক কিছু পাওয়া সম্ভব।

রুবেলুর রহমান/এফএ/এবিএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]