চার লাখ মানুষের একটি সেতু
বরগুনা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে খাগদন নদীর উপরে ব্যস্ততম সেতুটি স্থানীয়ভাবে লাকুরতলা ব্রিজ নামে পরিচিত। সেতুটি পেরিয়ে তিনটি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের প্রায় চার লাখ মানুষকে জেলা শহরে প্রবেশ করতে হয়। প্রতিদিন গড়ে দশ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এই সেতু পেরিয়ে শহরের স্কুল-কলেজগুলোতে যাতায়াত করে থাকে।
জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটিকে এক যুগ আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমান অবস্থা এতোটাই নড়বড়ে যে, যখন-তখন ভেঙে পড়ে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে সেতুটি। তাই সেতুর ওজন কমানেরা জন্য এর উপরের পাকা অংশ ভেঙে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ।
ভাঙাচোরা, আঁকাবাঁকা কয়েকটি লোহার পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। রিকশা-মোটরসাইকেল তো দূরের কথা, মানুষ হেঁটে গেলেও কাঁপছে সেতুটি। যে কোনো মুহূর্তে সেতুটি ধ্বসে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও ব্যস্ততম এই সেতুটি নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই।
এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও বাধ্য হয়ে স্কুল, কলেজ, অফিস-আদালত ও দোকানপাটের কাজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনে হাজার হাজার মানুষকে সেতুটি পেরিয়েই যোগাযোগ করতে হচ্ছে। 
বরগুনার সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আ. রব ফকীর জানান, সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নসহ বামনা ও বেতাগী উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় চার লাখ অধিবাসী এই সেতু পেরিয়ে জেলা শহরে যাতায়াত করে থাকে।
লাকুরতলা এলাকার ওহিদুজ্জামান কাবুল বলেন, সেতুটির নিচের পিলারগুলো এতোই দুর্বল যে মূল সেতুর মাঝখানের অংশটি অনেকখানি দেবে গেছে। এখন দুর্যোগ মৌসুম, বাড়ছে জোয়ারের পানির চাপও। তাই যে কোনো মুহূর্তে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট গৌরিচন্না ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রায় সময়ই সেতুটির উপরে অর্ধশত লোক যাতায়াত করে থাকে। তাই সেতুটি কোনোভাবে ভেঙে পড়লে এক সঙ্গে অনেক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। সেতুটি দুইবার সংস্কার করা হয়েছিল, তবে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ চলাচলের কারণে তা দুই দিনেই আবার ভেঙে যায়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেতুটি পাঁকা করে নির্মাণ করা জরুরি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে বরগুনা শহরের কাঁচাবাজার এলাকায় ৩০ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৭৩ দশমিক ১৭ মিটার দৈর্ঘ্য বরগুনা-লাকুরতলা সেতুটি নির্মাণ করে বরগুনার এলজিইডি। নির্মাণের পর ২০ বছর পার হয়ে গেলেও জেলার সর্বোচ্চ জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি সংস্কারে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে এলজিইডি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, লোক সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেতুটির ব্যস্ততা বেড়েছে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি লোড হওয়ায় সেতুটি দ্রুতই ভেঙে যাচ্ছে। সেতুটি নিয়ে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সেতুটির নিচ দিয়ে যাতে লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌ-পরিবহন চলতে পারে সেজন্য সেতুটিকে অনেক উঁচু করে তৈরির পরামর্শ দিয়েছে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ।
অথচ উঁচু করে সেতুটি নির্মাণের জন্য যে পরিমাণ সংযোগ সড়ক প্রয়োজন সে পরিমাণ জায়গা সেখানে নেই। তাই এ বিষয়ে এলজিইডি এবং নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানো যাবে বলেও জানান তিনি।
সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এআরএ/এমএস