সঞ্চয়পত্রের ‘ধাক্কা’ শেয়ারবাজারে
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর ঘোষণা আসার পর শেয়ারবাজারে টানা দুই কার্যদিবস বড় উত্থান দেখা যায়। তবে পরে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় শেয়ারবাজারে ফের দরপতন শুরু হয়। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের গতিও।
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লিখিয়েছে। এতে ডিএসইতে কমেছে মূল্যসূচক। তবে সিএসইতে সূচক বেড়েছে। অবশ্য দুই বাজারেই কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
গত ৩১ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার নির্ধারণ করে সরকার। স্কিমের ধরন অনুযায়ী মুনাফার হার সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয় ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত। যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ১ শতাংশের ওপরে কমানো হয়।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর পর নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবস (১ জানুয়ারি ও ৪ জানুয়ারি) শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। সেইসঙ্গে এক মাসের বেশি সময় পর ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে পাঁচশ কোটি টাকার ঘরে উঠে আসে। কিন্তু ৪ জানুয়ারি বিকালের দিকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকার। এতে সোমবার এসে শেয়ারবাজারে ফের দরপতন হয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, এদিন শেয়ারবাজার ছিলো বেশ অস্থির। অস্থিরত মধ্য দিয়েই লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকে। কিন্তু এরপর লেনদেনের সময় গাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম কমার তালিকা বড় হয়। ফলে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৯টির। আর ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮০টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৪৫টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৪টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৮৬ পয়েন্টে নেমে গেছে।
শেয়ারবাজারের এই দরপতনের বিষয়ে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর কারণে শেয়ারবাজারে দু’দিন ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। কিন্তু সরকার মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। যার কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়েছে। তবে এ প্রভাব সাময়িক হবে বলে মনে হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন দরপতনের মধ্যে থাকায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম এখন তলানিতে রয়েছে।
এদিকে প্রধান মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৮৫ কোটি ৮১ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৩৭ কোটি ৪১ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৫১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ২২ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার। ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মালেক স্পিনিং।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সায়হাম টেক্সটাইল, সায়হান কটন, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং রহিমা ফুড।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৬টির এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
এমএএস/এমএএইচ/জেআইএম