রোজার বাজারে স্বস্তি, কমেছে লেবু-শসা-বেগুনসহ নিত্যপণ্যের দাম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩০ এএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর বাজারে কমেছে লেবু-শসা-বেগুনসহ নিত্যপণ্যের দাম। ছবি: জাগো নিউজ

রোজাকে কেন্দ্র করে বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দামে যে বাড়তি উত্তাপ ছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। লেবু, শসা, বেগুনের মতো পণ্যের দাম কমার পাশাপাশি কিছু পণ্য রোজা শুরুর সময়ের তুলনায় আরও নিম্নমুখী হয়েছে। বিশেষ করে আলু ও পেঁয়াজের দামে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার আগে অনেক মানুষ একসঙ্গে দুই থেকে তিন সপ্তাহের বাজার করে রাখেন। ফলে সে সময় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছিল। বর্তমানে সেই চাপ নেই। তাছাড়া স্কুল-কলেজে ছুটি শুরু হওয়ায় ঢাকায় মানুষের উপস্থিতিও কমছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে দামে স্বস্তি ফিরেছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আলু ও পেঁয়াজের দাম রোজা শুরুর সময়ের তুলনায় অনেক কম। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায় এবং পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম ২০ টাকা কমেছে।

অন্যদিকে, চাহিদা কমে যাওয়ায় লেবু, বেগুন, কাঁচা মরিচসহ রোজা সংশ্লিষ্ট পণ্যের আগুন দামও এখন অনেকটাই ঠান্ডা। পাশাপাশি অন্যান্য প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি অন্তত ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোজার আগের দিন যে লেবু হালিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বড় আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, যা রোজার আগে ১৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

একইভাবে শসা ও বেগুনের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় এবং বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। বাজারে ক্রেতা কম থাকায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম আপাতত স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

রোজার শুরুতে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় উঠেছিল। তবে বর্তমানে সেই দাম অনেকটাই কমেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন বাজারে ভালোমানের কাঁচা মরিচ খুচরায় বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজিতে। আর পাড়া-মহল্লার ভ্যানে সাধারণ মানের মরিচ পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায়।

অন্যদিকে, রোজাকে কেন্দ্র করে ফুলকপি, মুলা ও শিমের মতো কিছু সবজির চাহিদা কমে গেছে। ফলে এসব পণ্যের দামও নেমে এসেছে। বর্তমানে শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একই দামে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে মুলা, গাজর, পেঁপে, ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ পাঁচ থেকে ছয় ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদা কম থাকায় বাজারে এসব পণ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

রামপুরা বাজারে সবজি বিক্রেতা আবু হোসেন বলেন, সবজির চাহিদাও অনেকটাই কমেছে। এ কারণে দামও কমছে। আর এক সপ্তাহ পর থেকে আরও কমবে কারণ অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাবে। সে সময় চাহিদা একবারেই থাকে না। এরই মধ্যে অনেকে যাওয়া শুরু করেছে। মেস হোস্টেল ক্রেতা কমছে।

এদিকে, মুদি পণ্যের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ছোলার দাম কমে বর্তমানে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার শুরুতে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। খোলা পাম তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমে নেমেছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। তবে সয়াবিন তেল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা লিটারে।

মাংস ও ডিমের বাজারেও দামের কিছুটা পতন দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে কেজিপ্রতি ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। এছাড়া ফার্মের মুরগির ডিম ডজনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়।

এনএইচ/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।