আইপিওতে কমছে সাধারণের অংশ, বাড়ছে প্রবাসী-মিউচুয়াল ফান্ডের কোটা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪২ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) মিউচুয়াল ফান্ড ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কোটা বাড়িয়ে এবং স্থানীয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা কমিয়ে নতুন পাবলিক ইস্যু বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সেইসঙ্গে আইপিও প্রক্রিয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য লটারি প্রথা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে অন্যান্য বিনিয়োগকারীরা প্রো-রাটা পদ্ধতিতে শেয়ার পাবেন।

নতুন পাবলিক ইস্যু বিধিমালার, শেয়ারবাজারে আইপিও প্রক্রিয়ায় কার্টেল, কৃত্রিম দর প্রস্তাব ও প্রাইস ম্যানিপুলেশন ঠেকাতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিএসইসির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শেয়ারবাজারে আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, বাজারনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক করতে স্টেকহোল্ডারদের বিস্তৃত মতামতের ভিত্তিতেই নতুন পাবলিক ইস্যু রুলস চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিএসইসির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়। বিএসইসির পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।

নতুন পাবলিক ইস্যু বিধিমালা অনুযায়ী, ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে স্থানীয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা বা অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ শতাংশ। এছাড়া আইপিওতে মিউচুয়াল ফান্ড ১০ শতাংশ, ইস্যুয়ার কোম্পানির স্থায়ী কর্মীরা ৫ শতাংশ, প্রাবাসীরা ১০ শতাংশ, বড় বিনিয়োগকারীরা ৫ শতাংশ এবং যোগ্য বিনিয়োগকারীরা ১০ শতাংশ শেয়ার পাবেন।

এর আগে আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশের মধ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা ২০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ৫ শতাংশ এবং প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা ৫ শতাংশ শেয়ার পেতেন।

অপরদিকে, নতুন পাবলিক ইস্যু বিধিমালা অনুযায়ী, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে স্থানীয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ রাখা হয়েছে ৩৫ শতাংশ। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড ১০ শতাংশ, ইস্যুয়ার কোম্পানির স্থায়ী কর্মীরা ৩ শতাংশ, প্রাবাসীরা ৭ শতাংশ, বড় বিনিয়োগকারীরা ৫ শতাংশ এবং যোগ্য বিনিয়োগকারীরা ৪০ শতাংশ শেয়ার পাবেন।

আগে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিও এলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ৭০ শতাংশ শেয়ার পেতেন। বাকি ৩০ শতাংশের মধ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা ২৫ শতাংশ এবং প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা ৫ শতাংশ শেয়ার পেতেন।

এদিকে, নতুন পাবলিক ইস্যু বিধিমালায় বুক বিল্ডিং পদ্ধতির ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের ৫০ শতাংশ শেয়ার ৯০ দিন, ২৫ শতাংশ শেয়ার ১২০ দিন এবং ২৫ শতাংশ শেয়ার ১৮০ দিন লকিং রাখার বিধান করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ ক্যাটাগরি এবং কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের তারিখ থেকে ২ বছর অথবা প্রথম লেনদেনের তারিখ থেকে ১ বছর এই দুটির মধ্যে যেটার সময় বেশি হবে, ততদিন লকিং থাকবে।

আইপিওতে কোটায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আবারও লটারি ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফলে এখন আইপিও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আবেদন করলেই শেয়ার পাবেন না, শুধু লটারি বিজয়ীরা শেয়ার পাবেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক ও যোগ্য বিনিয়োগকারীরা আবেদনের ভিত্তিতে প্রো-রাটা পদ্ধতিতে শেয়ার পাবেন। অর্থাৎ যারা আবেদন করবেন সবাই আনুপাতিক হারে শেয়ার পাবেন।

এছাড়া নতুন পাবলিক ইস্যু বিধিমালায় আইপিওতে আসার ক্ষেত্রে ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের শর্ত রাখা হয়েছে। ফলে ৩০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোনো কোম্পানি আইপিওতে আসতে পারবে না। আইপিওতে আসা কোম্পানিকে তার মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে।

বিএসইসি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মুখপাত্র জানান, নতুন আইপিও বিধিমালায় কার্টেল গঠন, কৃত্রিম দর প্রস্তাব বা সক্ষমতার বাইরে গিয়ে দর দেওয়ার মতো কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে ছয়টি নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে এবং নিয়ম ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান (পেনাল প্রভিশন) যুক্ত করা হয়েছে।

বিএসইসির মুখপাত্র বলেন, যাদের নির্দিষ্ট দামে শেয়ার কেনার বাস্তব সক্ষমতা নেই, তারা যেন ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি দর দিয়ে বাজারকে বিভ্রান্ত করতে না পারে— এ জন্যই এসব বিধিনিষেধ।

তিনি জানান, আইপিও বিধিমালার খসড়া প্রকাশের পর সাধারণ বিনিয়োগকারী, প্রতিষ্ঠান ও বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে মোট ১৭০টি মতামত ও মন্তব্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩৮টি ছিল বিস্তারিত বিশ্লেষণধর্মী মতামত, যেখানে কয়েকজন অংশীজন ২০০ পৃষ্ঠারও বেশি বিশ্লেষণ জমা দেন। এছাড়া ৩০টির মতো মতামত এসেছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে।

প্রাপ্ত প্রতিটি মন্তব্য কমিশনের সভায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। যেসব বিষয়ে একাধিক স্টেকহোল্ডারের মধ্যে মিল পাওয়া গেছে, সেসব বিষয় নতুন বিধিমালায় প্রতিফলিত হয়েছে। খসড়া ও চূড়ান্ত বিধিমালার মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তার পুরোটাই এসেছে এসব মতামত ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে- যোগ করেন আবুল কালাম।

এমএএস/এমএএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।