ইতিহাসের সর্বনিম্ন লভ্যাংশ ঘোষণা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এবার শেয়ারহোল্ডারদের মাত্র ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে কখনও কোম্পানিটি এতো কম লভ্যাংশ দেয়নি।
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য এই লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ডিএসই জানিয়েছে, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ শেয়ারহোল্ডাররা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৩ টাকা লভ্যাংশ পাবেন।
১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এতো কম লভ্যাংশ কোম্পানিটি আর দেয়নি। এর আগে ২০২৪ সালে ৩০০ শতাংশ, ২০২৩ সালে নগদ ১০০ শতাংশ, ২০২২ সালে নগদ ২০০ শতাংশ, ২০২১ সালে নগদ ২৭৫ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ৬০০ শতাংশ নগদ ও ২০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।
২০২৫ সালের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ এপ্রিল। এ জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১ এপ্রিল।
সমাপ্ত বছরটিতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ১০ টাকা ৮০ পয়সা। যা আগের বছরে ছিল ৩২ টাকা ৪২ পয়সা।
এই মুনাফা কমার কারণ হিসেবে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত বছরেৎশেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ৬৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ পতনের পেছনে প্রধানত নিম্ন টার্নওভার এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি দায়ী, যা মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ ও ব্যবসার কিছু খাতে কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ঢাকার কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে প্ল্যান্ট, যন্ত্রপাতি ও সিগারেট উৎপাদন সরঞ্জাম সাভার কারখানায় স্থানান্তর করা হয়। বাধ্যতামূলকভাবে সাইট বন্ধ, স্থানান্তর ও পুনর্গঠন ব্যয়ের ফলে পরিচালন মুনাফায় এককালীন ৭১৫ কোটি টাকা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
গত বছরের ১৪ মে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর পক্ষ থেকে অবিলম্বে মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে বিএটিবিসির তামাক কারখানা অপসারণ করার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানানো হয়। এরপর গত ১ জুলাই থেকে ঢাকার মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১ জুলাই থেকে বিএটিবিসির ঢাকার কারখানা বন্ধ করার পাশাপাশি কোম্পানি নিবন্ধিত অফিসও পরিবর্তন করা হয়। কোম্পানির নিবন্ধিত অফিসের নতুন ঠিকানা আশুলিয়ার দেওড়া, ধামসোনা, বলিভদ্র বাজার।
ডানহিল, লাকি স্ট্রাইক, কেন্ট, পলমল, কুল, বেনসন এবং রথম্যান্স তামাকজাত পণ্যের উৎপাদনকারী এ প্রতিষ্ঠানটি তামাকজাত পণ্য বিক্রির দিকে থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। বিশ্বজুড়ে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করা কোম্পানিটি বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করছে।
১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৪ কোটি। এর মধ্যে ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ শেয়ার আছে।
এমএএস/এসএনআর