এবার বিমার শেয়ারের ঢালাও দরপতন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৮ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ফাইল ছবি

এক কার্যদিবস দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখানোর পরের কার্যদিবসেই বিমা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের ঢালাও দরপতন হয়েছে। এতে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সার্বিক শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি কমেছে প্রধান মূল্য সূচক। তবে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও মূল্য সূচক বেড়েছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। এতে লেনদেনের শুরুতে মূল্য সূচকও বাড়তে দেখা যায়। তবে লেনদেনের শেষদিকে বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার দামে ঢালাও দরপতন হয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতেও। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি প্রধান মূল্য সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২২০টির। আর ৬৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। আর ৪৯টির শেয়ার দাম কমেছে এবং দুটির শেয়ার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২১টির দাম কমেছে এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৪টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৫৫টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৪টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অধিকাংশ বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম কমার দিনে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ৯৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯১২ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

প্রধান মূল্য সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৭৯ কোটি ৮০ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৬৯ কোটি ৬৭ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস ডিএসইতে লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ঘরে থাকলো।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ২২ লাখ টাকার। ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এপেক্স স্পিনিং।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—ওরিয়ন ইনফিউশন, মালেক স্পিনিং, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এসিআই, লাভেলো আইসক্রিম এবং খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৯টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

এমএএস/এমএমকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।