শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানি ড্রেসের ‘ঝাঁজ’ কমলেও শিশুদের পোশাকে চড়া দাম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩১ এএম, ২০ মার্চ ২০২৬
শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানি ড্রেসের ‘ঝাঁজ’ কমলেও শিশুদের পোশাকে চড়া দাম/ছবি-মফিজুল সাদিক

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ আয়োজনে নতুন পোশাকের একটা বড় ভূমিকা থাকে। তাই উৎসবের শেষ মুহূর্তে কেনাকাটায় মানুষের যে উপচেপড়া ভিড় থাকার কথা, ঢাকার নিউমার্কেটে এবার দেখা গেছে তার পুরোপুরি উল্টো চিত্র। শেষ সময়ের এই বেচাকেনায় ব্যাপক মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানি ড্রেসের ‘ঝাঁজ’ কমলেও শিশুদের পোশাকে চড়া দাম।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) নগরীর নগরীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া, মিরপুর হকার্স মার্কেটে শেষ সময়ে বাজারগুলোতে এসব চিত্র দেখা গেছে।

ইস্টার্ন মল্লিকার আকসারায় মূলত পাকিস্তানি পোশক বেচাকেনা হচ্ছে। প্রকার ও মানভেদে ৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এসব পোশাক। তবে গত দুইদিন বেচাকেনায় কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে দাবি বিক্রেতাদের। মূলত ভায়া হয়ে ইমপোর্টারদের কাছ থেকে পাকিস্তানি পোশাক কিনে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে দোকানটি। মারিয়া, হোসনেয়ারা, আইজ্যাস, সাদা বাহার, বিন হামিদ, মুনা, জান্নাত, ওয়ার্দা ইউজার, আইমান-আইশা, গুজে, বিন সাইদ, নূর্স নামে বাহারি পাকিস্তানি পোশাক বিক্রি হচ্ছে। ১৫ রোজার পরে বেচাকেনায় ধুম ছিল সেটা আর নেই। গত দুই দিন থেকে বেচাকেনা একেবারেই কম। তাই কেনা দামে পোশাক বিক্রি করা হচ্ছে বলে দাবি বিক্রেতাদের।

jagonews24

পাকিস্তানি ব্র্যান্ড পোশাক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান আকসারার ম্যানেজার জুনায়েদ সিদ্দিক বলেন, গত দুই তিনদিন বেচাকেনা ভালো হচ্ছে না। নানা কারণে বেচাকেনা কম। এসব কারণে আমরা কেনা দামে পোশাক ছেড়ে দিচ্ছি। মানুষের পারসেচ ক্যাপাসিটিও কমে গেছে। এক থেকে দেড় হাজার টাকা কম দিয়ে পোশাক বিক্রি করছি।

নিউমার্কেটে দুবাই পয়েন্টে বাচ্চাদের পার্টি ফ্রগ দুই হাজার থেকে ‍দুই হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ফুটপাতে মানভেদে মিলছে ৪০০ টাকায়। অন্যদিকে ইস্টার্ন প্লাজার আল নাহিম দোকানে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানি পোশাক। 

এছাড়া নায়া ক্লথিংয়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার হাঁকা হচ্ছে পাকিস্তানি ড্রেস। দোকান মালিকদের দাবি পোশাকগুলো সরাসরি পাকিস্তান থেকে এসেছে। কাটিংও পাকিস্তানি। আগে ভালো মানের পাকিস্তানি ড্রেস ১৭ হাজারে বিক্রি হলেও এখন ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানায় নায়া দোকানের স্বত্বাধিকারী।

এছাড়া আরও একটা দোকানে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকায় এবং সর্বনিম্ন আনস্টিজ পাকিস্তানি ড্রেস ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মেহেরুবায়। এখানে পাকিস্তানি পোশাক বিক্রি হচ্ছে।

jagonews24

তবে গত ঈদের তুলনায় এক বছরের ব্যবধানে বাচ্চাদের পোশাকের দাম বাড়তি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। নিউমার্কেটে পাঁচ বছরের মেয়ে বাচ্চার জন্য একটি গর্জিয়াস পোশাক কিনেছেন সানজিদা তামান্না।

তিনি বলেন, গত বছরের ঈদে একই পোশাক ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা কিনেছি। একই মানের পোশাক আজকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছি। গত বছরের তুলনায় দাম বাড়তি। সবার কাছে একই দাম। সবাইকে আমার সিন্ডিকেট মনে হয়েছে।

দাম বেশি হলেও গত ঈদের তুলনায় এবার বাচ্চাদের পোশাকের বিক্রি ১৫-২০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। মেয়ে শিশুদের ওয়ান–পিস, টু–পিস এবং ছেলেদের প্যান্ট-শার্ট ও গেঞ্জির কাটতি বেশি। নূরজাহান মার্কেটের মেয়েদের ওয়ান–পিস বিক্রি হয় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। টু–পিসের দাম হাঁকা হচ্ছে ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। আর দুই থেকে আড়াই শ টাকায় বিক্রি হয় পালাজ্জো।

বিক্রেতারা জানান, ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার পোশাক বিক্রি হচ্ছে। বাচ্চাদের কাপড় বিক্রি ভালো। শেষ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও গত দুই তিন দিন বেচাকেনা কম।

গাউছিয়ায় দেশীয় ও ভারতীর পোশাক বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে থ্রি–পিস। স্টন ওয়ার্কের ‘ফারসি’ স্যুট বেচাকেনা কিছুটা ভালো।

jagonews24

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেকে ভিড় এড়িয়ে কিছুটা নিরিবিলি কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অনেকে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এসব ক্রেতাদের সমাগম বেশি। অনেকে কেনাকাটা করে এরই মধ্যে গ্রামে পাড়ি জমিয়েছেন ফলে নিউমার্কেটে কিছুটা ভিড় কম।

নগরীর ধানমন্ডি ভূতের গলি থেকে সপরিবারে কেনাকাটা করতে এসেছেন তানজিলা খাতুন। তিনি বলেন, আমি সব সময় চাঁদরাতে কেনাকাটা করি। চাঁদরাতে কেনাকাটা করে মজা আছে। এই সময় বিক্রেতারা বেশি দাম হাঁকে না। দামও কম পাওয়া যায়। আমরা ভূতের গলির স্থায়ী বাসিন্দা এটাই আমার গ্রাম এটাই আমাদের শহর।

অন্যদিকে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে জামদানি কুটিরে ৬ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোশাক কেনার পরে শেষ সময়ে অনেকে এখন আনুষঙ্গিক পণ্য কিনছেন।

প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারের অগ্রণী হিজাব ম্যাচিংয়ের মালিক মো. সালাহউদ্দীন জানান, তারা সুতি, জর্জেট ও চীনা সিল্ক কাপড় দিয়ে তৈরি হিজাব, স্কার্ফ ও ওড়না ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেন। দৈনিক ৪০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়।

এদিকে নিউমার্কেটের  ফুটপাতেও বেচাকেনায়ে হঠাৎ ভাটা। তাদের দাবি গত চারদিন বেচাকেনা নেই। ফুটপাতে ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে নানা ফ্যাশনের জুতা।

জুতা বিক্রেতা আমিরুল বলেন, ‘কি হইলো মামা বুঝলাম না। হঠাৎ করেই ক্রেতা নাই। ক্রেতা কি হারাই গেছে না ট্যাকা নাই কিছুই কইতে পারতাম না।’

ফুটপাতের দোকানি সেলিমের কাছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় পায়জামা বিক্রি হচ্ছে। দিনে ১০০ থেকে ১৫০ পিস পায়জামা বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ টাকা গড় দাম ধরলে তার দৈনিক বিক্রি ৬০ হাজার টাকার মতো। কিন্তু গত দুই দিন বেচাকেনা অর্ধেকে নেমেছে।

অনেকে পোশাক আগেই কিনেছেন। কেনা পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে অলংকারের দোকানে কিছু বাড়তি ভিড় দেখা গেছে। গাউছিয়া ও নিউমার্কেটে পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে তরুণীরা অলংকার, ওড়না-হিজাব, পায়জামা, জুতা, চুড়ি, কানের দুল, আংটিসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক সামগ্রী কিনছেন।

পোশাক কিনতে এসেছেন নাবিলা সুলতানা। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৫ রোজার মধ্যে মোট চারটি পোশাক কিনেছি। মিরপুর রং জয়ী ও মোহাম্মদপুর টোকিয়ো স্কার থেকে পোশাকগুলো কেনা হয়েছে। এসব পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে চুড়ি, দুল, নাকফুল, আংটি ও মালা কিনেছি। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকার মনোহারী কিনেছি। তবে দাম এবার একটু বাড়তি। একই পরিমাণের পণ্য গত বছর ১ হাজার টাকা খরচ করেছি। এখনো মেহেদি ও কিছু সফট মেকাপের সামগ্রী কেনা বাকি।

এমওএস/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।