ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান

একীভূতকরণ-অবসানের পর লিয়েনভিত্তিক ঋণে আইনি জটিলতার আশঙ্কা

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৬ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক, ফাইল ছবি

ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) একীভূতকরণ ও অবসান প্রক্রিয়ার পর শেয়ার বন্ধক (লিয়েন) রেখে নেওয়া ঋণ নিয়ে নতুন ধরনের আর্থিক ও আইনি জটিলতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে যেসব ব্যাংকের শেয়ার একীভূতকরণের মাধ্যমে এরইমধ্যে বাতিল হয়েছে এবং যেসব এনবিএফআইয়ের শেয়ারের মূল্য শেষ পর্যন্ত শূন্যে নেমে আসতে পারে, সেগুলো বন্ধক রেখে নেওয়া ঋণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) এ বিষয়ে এক বৈঠকে সম্ভাব্য সমস্যা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকে আর্থিক খাত সংস্কারের ফলে উদ্ভূত সম্ভাব্য প্রভাবগুলো চিহ্নিত করে সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে সুপারিশ জমা দিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী ছাড়াও বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন সদস্য জানান, বলেন, শেয়ারসহ বিভিন্ন সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া একটি প্রচলিত চর্চা। ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে রাখা শেয়ার যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে ব্লক করা হয়। এসব শেয়ার সিডিবিএলের ‘প্লেজড মডিউল’-এর আওতায় অবরুদ্ধ থাকে।

তিনি বলেন, কে ঋণদাতা আর কে ঋণগ্রহীতা, তা জানার প্রয়োজন আমাদের নেই। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে যখন শেয়ার বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজন হয়, তখনই কেবল আমাদের হস্তক্ষেপ দরকার হয়।

এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এরইমধ্যে একীভূত ৫ ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন শূন্যে নামিয়ে এনেছে। ফলে এসব ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের দাবি কার্যত বিলুপ্ত হয়েছে। তবে এরপরও কিছু জটিলতা থেকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর মধ্যে একটি বড় উদ্বেগ হলো-তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বন্ধক রেখে স্পনসর-ডিরেক্টর বা বড় ব্যক্তিগত শেয়ারহোল্ডারদের নেওয়া ঋণ। যদি দেখা যায়, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ার বন্ধক রেখে অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল, তাহলে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে একদিকে ঋণগ্রহীতার একীভূত ব্যাংকে ইকুইটি দাবি শূন্য হয়ে যাবে, অন্যদিকে ঋণদাতার কাছে বন্ধক রাখা শেয়ারের ওপর দাবি থেকে যাবে, যা আইনি ও আর্থিক দিক থেকে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে পারে।

সিডিবিএলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অতীতে বিভিন্ন কোম্পানির স্পনসর-ডিরেক্টরদের এভাবে শেয়ার বন্ধক রেখে ঋণ নিতে দেখা গেছে। এমন ঘটনা সামনে এলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সমাধান দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। 

তিনি জানান, এ ধরনের সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান কী হতে পারে, তা নিয়ে রোববার সিডিবিএলের ভেতরে একটি বৈঠক হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বিএসইসি একীভূতকরণ ও অবসানের পর ১৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাব মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে। একীভূত ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি নয়টি এনবিএফআইয়েরও কিছু সহায়ক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা সেকেন্ডারি মার্কেটে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

ডিএসইর এক কর্মকর্তা জানান, এসব বিষয় নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য সোমবার (১৯ জানুয়ারি) স্টক এক্সচেঞ্জ ও সিডিবিএলের মধ্যে যৌথ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এমএএস/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।