বিজিএমইএ
জাপানের সঙ্গে চুক্তি ১০০ বিলিয়ন রপ্তানি লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে
জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য এক ‘ঐতিহাসিক ধাপ’ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এই চুক্তির ফলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি। আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্য অর্জনে এ চৃুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা বিজিএমই’র।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বিজিএমইএ জানিয়েছে, জাপান সরকারের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা আমাদের আরএমজি খাতকে শক্তিশালী করেছে। এই চুক্তি দেশের জন্য বাজারে প্রবেশাধিকারকে আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য করবে। এটি শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসভিত্তিক অংশীদারিত্বের স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ।
চুক্তি অনুযায়ী, রপ্তানি পণ্যের শুল্ক পুরোপুরি বাতিল হবে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার শর্তগুলো সহজ রাখা হয়েছে।বিজিএমইএ জানায়, এক ধাপের প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত পণ্যও শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। এটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক। জাপানের বাজারে আমাদের অংশ কমপক্ষে ১০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হওয়ার সুযোগ থাকবে, যা দেশের ২০৩৫ সালের ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ।
চুক্তি শুধু আরএমজি খাত নয়, অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং জাপানি আমদানি ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতা, যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতেও সহায়তা করবে। বিজিএমইএ আশা প্রকাশ করেছে, এই চুক্তি একটি নির্ভরযোগ্য ও সুবিধাজনক বাণিজ্য পরিবেশ তৈরি করবে, যা দেশের রপ্তানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে এবং জাপানের সঙ্গে চলমান ৪৫৬ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিজিএমইএ আরও জানিয়েছে, জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নয়, এটি আমাদের দেশের বাণিজ্য নীতির জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। এটি ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তি আলোচনায় সরকারের জন্য একটি নির্দেশিকা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
বিজিএমইএ বলেছে, শিগগিরই আমেরিকার সঙ্গে হতে যাওয়া বাণিজ্য চুক্তি আমাদের কটন ব্যবহার করে শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরের আহ্বান জানাই যাতে দেশের শিল্পখাত এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, এই চুক্তি আরএমজি খাতের জন্য শুধু সুবিধাজনক নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
ইএইচও/এমএমকে