নির্বাচনের আগে শ্রম আইন পরিবর্তন অযৌক্তিক: শেভরন কর্মচারী ইউনিয়ন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০১ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিদেশি বিনিয়োগকৃত জ্বালানি খাতকে আইনসম্মত ৫ শতাংশ শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) থেকে অব্যাহতি দেওয়ার লক্ষ্যে শ্রম আইন সংশোধনের যে কোনো উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে শেভরন বাংলাদেশ অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিইইউ)। একই সঙ্গে বিচারাধীন বিষয়ে শ্রম আইনে পরিবর্তনের উদ্যোগ বন্ধ ও জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এসব দাবি জানায়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা সোহেল ইকবাল, সহসভাপতি এস এম শাহরিয়ার আবেদীন, টাল্লো বাংলাদেশ অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন আল রশিদসহ অন্যান্য নেতারা।

সংগঠনটির দাবিগুলো হলো- বিচারাধীন বিষয়ে শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালায় যে কোনো প্রকার পরিবর্তনের উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকৃত জ্বালানি খাতকে আইনসম্মত ৫ শতাংশ ডব্লিউআইপিপিপি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে শ্রম আইন অথবা শ্রম বিধিমালা সংশোধনের সব উদ্যোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল শ্রম নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পূর্ণ অনুচিত, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বিবেচনায় এমন সব উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, শেভরনের জালালাবাদ, বিবিয়ানা ও মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র এবং টাল্লোর (বর্তমানে ক্রিস এনার্জি) বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্র দেশের গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ নিশ্চিত করছে। দেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদেশি বিনিয়োগকৃত জ্বালানি খাতে কর্মরত জাতীয় কর্মচারীদের আইনসম্মত ডব্লিউপিপিএফ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নির্বাচনের আগে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে থাকার সুযোগে সংবেদনশীল ও শ্রমিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তড়িঘড়ি করে বিধি সংশোধনের চেষ্টা অনুচিত ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী।

নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, শেভরন বাংলাদেশের শ্রমিকরা ২০১৩ সাল থেকে প্রাপ্য লভ্যাংশ না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট করেন ২০২২ সালে। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর আদালত শ্রমিকদের পক্ষে রায় দিয়ে তিন মাসের মধ্যে নিট মুনাফার ৫ শতাংশ ডব্লিউপিপিএফ পরিশোধের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে শেভরন আপিল করলেও আপিল বিভাগ কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। বর্তমানে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় এ সময়ে শ্রম বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ আদালতের কাজে হস্তক্ষেপের শামিল।

তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে ১০০ শতাংশ রপ্তানিমুখী খাতকে ডব্লিউপিপিএফ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচার বিরোধী ছিল। এ বিষয়ে দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন।

সাধারণ সম্পাদক জানান, ৬ জানুয়ারি শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। পরে জানা যায়, কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের চাপে দ্রুত সংশোধনী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ১২ জানুয়ারি পেট্রোবাংলার ডাকা বৈঠকের এজেন্ডা আগেভাগে জানানো হয়নি। ওই বৈঠকে বিদেশি কোম্পানির উপস্থিতি আলোচনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শ্রমিকদের আইনসম্মত অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে কোনো উদ্যোগ বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য। দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

ইএইচটি/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।