নিজেকে ১০০ এর মধ্যে ৭০ নম্বর দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৬ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, ছবি: জাগো নিউজ

অর্থনৈতিক সংস্কার ও নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে নিজের কাজের মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭০ নম্বর দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, অনেক উদ্যোগ শুরু করা গেলেও সবকিছু শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবুও জনগণের স্বার্থে কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা ছাড়াই কাজ শুরু করা হয়েছে, সেটিই বড় অর্জন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমি খুব প্র্যাগমেটিক মানুষ। নিজেকে ১০০ নম্বর কেন দেবো? আমাদের অনেক ইচ্ছা ছিল, অনেক কাজ শুরু করেছি, কিন্তু সব শেষ করে যেতে পারিনি। সে কারণেই আমি নিজেকে ৭০ বা ৮০-এর বেশি দিতে রাজি নই।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সময়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা সহজ ছিল না। কাঠামোগত দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময় লেগেছে।

এনবিআর ও কর সংস্কারে অসম্পূর্ণতা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এনবিআরকে কার্যকর করতে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হলেও নীতিগত সংস্কার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। পলিসি ডিভিশনগুলো যদি আরও আগে থেকে পুরোপুরি কাজ শুরু করতে পারতো, তাহলে ফলাফল আরও ভালো হতো।

তবে কর নীতিমালার একটি গাইডলাইন রিপোর্ট রেখে যাচ্ছেন বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা, যা পরবর্তী সরকারের জন্য সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল আইনে গভর্নরের মর্যাদা বাড়ালেই প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় না। অপারেশনাল সক্ষমতা ও দায়িত্বশীলতা জরুরি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চার বছর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বড় কোনো সরকারি হস্তক্ষেপের মুখে পড়েননি।

ব্যাংকিং খাতকে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ, আস্থাহীনতা ও সীমিত ক্রেডিট সাপ্লাই অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। যদিও আমানত কিছুটা বেড়েছে, তবু পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি বড় বাধা

অর্থ উপদেষ্টার মতে, অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কর্মসংস্থান। ব্যবসা ও শিল্প সচল না হলে কর্মসংস্থান আসবে না। কর্মসংস্থান না হলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে না।

তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা, যার সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় জড়িত।

পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট উন্নয়নের প্রয়োজন

পুঁজিবাজারের দুর্বলতার কথা স্বীকার করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আদালতকেন্দ্রিক জটিলতা ও দীর্ঘদিনের সমস্যার কারণে সংস্কার কার্যক্রম ধীরগতির হয়েছে। তবে ব্যাংকনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ইকুইটি ও বন্ড মার্কেট উন্নয়ন অপরিহার্য।

তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশেই প্রাইভেট সেক্টরের জন্য শেয়ার ও বন্ড মার্কেট গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে টেকসই শিল্পায়ন সম্ভব নয়।

অর্থপাচার: তথ্য আছে, প্রক্রিয়া জটিল

অর্থপাচার প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কোন কোন দেশে, কারা অর্থ পাচার করেছে, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট অঙ্ক বলা কঠিন। 

তিনি জানান, বিদেশ থেকে অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সের মতো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, বেসটা তৈরি হয়েছে। পরবর্তী সরকার যদি সিরিয়াস হয়, তাহলে এই তথ্যগুলো কাজে লাগাতে পারবে।

ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতি আহ্বান

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নতুন করে সব আবিষ্কার করার দরকার নেই। আমরা যা করেছি, সেটাকে কনসলিডেট করুন। ভালো জিনিসগুলো ধরে রাখুন। সবচেয়ে জরুরি হলো সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।

নিজের জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি অনেক আগেই সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন। ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতার আশঙ্কাও দেখছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমালোচনা করবেন, কিন্তু পুরো চিত্রটা দেখবেন। ১৭-১৮ মাসে কিছুই করা হয়নি, এমন বলা ঠিক নয়। অনেক কাজ শুরু হয়েছে, যেগুলোর ফল সামনে দেখা যাবে।

এমএএস/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।