বাণিজ্য উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে ৮৫-৮৬ শতাংশ পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা মিলবে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫০ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) ফলে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা মিলবে।

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তি সই নিয়ে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। এই বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার প্রথম ধাপে শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

তিনি জানান, এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ছয় বিলিয়ন ডলারের বেশি যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে তা কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাঠামোগত সংস্কার ও আমদানি উদারীকরণের উদ্যোগ নেয়। এ সুযোগের মধ্যে সরকার চুক্তিটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পাশাপাশি আরও আলোচনার মাধ্যমে অতিরিক্ত সুবিধা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টার ভাষায়, আলোচনার মাধ্যমে দুটি বড় অর্জন এসেছে। প্রথমত শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৬ শতাংশ গার্মেন্টস পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক শূন্য রেসিপ্রোকাল ট্যারিফে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক পোশাক কৃত্রিম তন্তু বা সিন্থেটিক ফাইবার দিয়ে তৈরি হলেও এই সুবিধা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত গার্মেন্টসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তুলা আমদানিকারক দেশ। দেশের গার্মেন্টস শিল্পে ব্যবহৃত তুলার মাত্র ২ শতাংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয় বাকি ৯৮ শতাংশই আমদানি নির্ভর। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার বাংলাদেশের জন্য যেমন উপযোগী তেমনি এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও সহায়ক হবে।

তিনি আরও জানান, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, জ্বালানি পণ্য এবং ঐতিহ্যবাহী মেটাল স্ক্র্যাপ আমদানির বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য শুল্কে প্রবেশের সুযোগ পাবে। বাকি ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, চুক্তিতে একটি শর্ত সংযুক্ত রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজনে উপযুক্ত নোটিশ দিয়ে বাংলাদেশ এই চুক্তি থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার যদি মনে করে এই চুক্তি দেশের স্বার্থের অনুকূল নয়, তাহলে তারা সে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

তিনি বলেন, এই অর্জন কোনো একক দপ্তরের নয়। সরকারের সামগ্রিক উদ্যোগ, বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তর এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই সাফল্য এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে।

পরে দর কষাকষি করে এ হার ২০ শতাংশ নামে যা ১ অাগস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক সব মিলিয়ে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ।

বাড়তি এ শুল্ক আরোপের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার টানা নয় মাসের বেশি সময় ধরে তা কমাতে আলোচনা চালিয়ে আসছিল। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সই হয়।

নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে এখন পারস্পরিক শুল্ক দিতে হবে ১৯ শতাংশ। এতে করে মোট শুল্কহার আগের ৩৫ শতাংশ থেকে কমে হবে ৩৪ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছি তার সঙ্গে তারা ‘পটেনশিয়াল ট্যারিফ অ্যাডজাস্টমেন্ট ফর পার্টনার কান্ট্রিস’ নামে একটা ট্যারিফ সুবিধা দিয়েছে। চুক্তিটা কার্যকর হওয়ার দিন থেকে সেটা কার্যকর হবে। সেটা হলো ২ হাজার ৫০০ আইটেমের ওপরে তারা ডিউটি ফ্রি বেনিফিট দিয়েছে।

তার মধ্যে আমরা যা উৎপাদন করি মোটামুটি ফার্মাসিউটিক্যালস হলো এক নম্বর। ফার্মাসিউটিক্যালসের সবগুলো এইচএস কোড, সবগুলো র-ম্যাটেরিয়ালের ওপরে ডিউটি ফ্রি বেনিফিট দেওয়া হয়েছে- বলেন বাণিজ্য সচিব।

এছাড়া প্লাস্টিক পণ্য, উড়োজাহাজের যন্ত্রপাতি, প্লাইউড বোর্ডসহ অনেকগুলো পণ্য রয়েছে। যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে গেছে তাদের জন্য এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সচিব।

এমএএস/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।