সীমাতিরিক্ত ঋণ সমন্বয় ছাড়া নবায়ন না করার বাধ্যবাধকতা বাতিল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৫ এএম, ০৪ মার্চ ২০২৬

চলমান ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আট মাস আগে দেওয়া নির্দেশনায় সীমাতিরিক্ত ঋণ সমন্বয় ছাড়া নবায়ন না করার যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঋণ ‘মন্দমান’ বা খেলাপি হওয়ার আগ পর্যন্ত নবায়নের সুযোগ থাকবে।

এই শিথিলতা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশের সব ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মো. মোস্তাকুর রহমান গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যবসায়ীদের জন্য দুটি সুবিধা ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে চলমান ঋণ নবায়নের নিয়ম শিথিল করা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধে এক বছর মেয়াদি বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে জারি করা নির্দেশনায় চলমান ঋণের সংজ্ঞা এবং ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে উল্লেখ ছিল, ঋণের মেয়াদোত্তীর্ণ অংশ পরিশোধ ছাড়া শ্রেণিকৃত ঋণকে অশ্রেণিকৃত করার সুযোগ নেই। একই নির্দেশনার আলোকে গত বছরের ২৫ জুন চলমান ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, অনেক ব্যাংক চলমান ঋণ নবায়নের সময় সীমাতিরিক্ত অংশসহ নতুন ঋণসীমা নির্ধারণ করছে বা সীমাতিরিক্ত অংশকে আলাদা ঋণ হিসেবে স্থানান্তর করছে, যা ব্যাংকিং নীতিমালার পরিপন্থি। ঋণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চলমান ঋণের সীমাতিরিক্ত অংশ সমন্বয় ছাড়া নবায়ন করা যাবে না এবং ওই অংশকে নতুন ঋণ হিসেবে সৃষ্টি বা অন্য কোনো ঋণে স্থানান্তর করা যাবে না।

তবে নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে অনেক সময় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে চলমান ঋণ নবায়ন করা সম্ভব হয় না। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে দুই মাস আগে নবায়নের প্রক্রিয়া যেমন গ্রাহকের আবেদন গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন শুরু করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও যদি সময়মতো নবায়ন সম্পন্ন না হয়, তবে ঋণটি বিরূপমানে শ্রেণিকৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত নবায়নের সুযোগ থাকবে। এক্ষেত্রে সময়মতো নবায়ন না হওয়ার কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ঋণের সীমাতিরিক্ত অংশ সমন্বয় সাপেক্ষে ঋণ নবায়ন করা যাবে এবং ঋণ সম্পূর্ণ সমন্বয়ের বাধ্যবাধকতা থাকবে। তবে সীমাতিরিক্ত অংশকে মূল ঋণ হিসাব থেকে আলাদা করে নতুন ঋণ সৃষ্টি বা অন্য কোনো ঋণ হিসাবে স্থানান্তর করা যাবে না।
নতুন এ নির্দেশনা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে গত বছরের ২৫ জুন জারি করা নির্দেশনাটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

ইএআর/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।