সন্ধ্যা ৬টায় দোকান বন্ধ নিয়ে ব্যবসায়ীদের অসন্তোষ, সময় বাড়ানোর দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে খোলা রয়েছে বিভিন্ন বিপণিবিতান ও মার্কেট, ছবি: জাগো নিউজ

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার পর সব ধরনের দোকান, বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, ছয়টায় দোকান বন্ধ করলে বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং এটি সার্বিক অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করবে। তাই সরকারের কাছে দোকান খোলা রাখার সময় আরও কিছুটা বাড়ানোর আহ্বান জানাবেন তারা।

এদিকে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে সন্ধ্যা ৬টার পরও একাধিক বিপণিবিতান ও মার্কেট খোলা ছিল। তালতলা ও মৌচাক মার্কেটসহ মিরপুরের বিভিন্ন মার্কেটে বেচাকেনা স্বাভাবিকভাবে চলছিল।

তালতলা মার্কেটে মুনিয়া ফ্যাশনের কর্ণধার আবু ইউসুফ বলেন, দোকান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করলে বিক্রি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে যাবে। কারণ সাধারণত ক্রেতারা বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত আসে। এমন সিদ্ধান্তে অনেক বিক্রেতা লোকসানে পড়বে, এমনিতেই বর্তমানে বেচাবিক্রির অবস্থা ভালো নয়।

শুধু আবু ইউসুফই নয়, বিভিন্ন এলাকার বিক্রেতারাও সরকারের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন এবং এতে উষ্মা প্রকাশ করেছেন তারা।

আরও পড়ুন
সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা নেই, নিউমার্কেটে রাত সাড়ে ৮ টায়ও দোকান খোলা
বিনোদনপিপাসু ঢাকাবাসীর ভরসার নাম রমনা পার্ক
সরকারি দাম তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছামতো চলছে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি

অন্যদিকে, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে দোকান মালিকদের দুই সংগঠনের। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলার চেষ্টা করছি। তবে শনিবার (৪ এপ্রিল) সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসবো, জানতে চাইবো এভাবে দোকান বন্ধ রাখলে প্রকৃতপক্ষে কতটা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। পাশাপাশি, প্রতিবার কেন এ ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু আমাদের ওপরই আসে, সেটাও জানতে চাই।’

আরেক সংগঠন দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত মানতে চাই, কারণ দেশকে ভালোবাসি। বর্তমান পরিস্থিতি বৈশ্বিক— এটা আমরা বুঝি।’

তিনি বলেন, ‘দেশে ৭০ লাখের বেশি দোকানপাট রয়েছে, যেখানে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত। আমরা চাই স্বস্তিতে ব্যবসা করতে। আগামীকাল সরকারের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। সেখানে আমরা প্রস্তাব দেবো, সকাল ১১টায় দোকান খোলা এবং রাত ৮টায় বন্ধ করার। এতে অফিস শেষে ক্রেতাদের কেনাকাটার সুযোগ থাকবে।’

ব্যবসায়ীদের দাবি, হঠাৎ সময়সীমা কমিয়ে দেওয়ায় বিক্রিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে, বিশেষ করে অফিস শেষে ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল দোকানগুলোতে।

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সাশ্রয় ও ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনসহ একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস চলবে এবং সন্ধ্যা ৬টার পর সব ধরনের বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

এনএইচ/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।