জরিপের ফল প্রকাশ
নিয়ন্ত্রিত নীতিমালা কাঠামো তরুণদের ই-সিগারেট ব্যবহার হ্রাসে কার্যকর
নিয়ন্ত্রিত নীতিমালা কাঠামোর আওতায় ই-সিগারেট পণ্যের ব্যবহারে বৈশ্বিকভাবে ইতিবাচক জনস্বাস্থ্য ফলাফল দেখা গেছে। জরিপে উঠে এসেছে, নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো গ্রহণের কারণে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহার কমে প্রায় ৫.২ শতাংশে নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘গ্লোবাল ইএনডিএস পলিসি ল্যান্ডস্কেপ: এভিডেন্স-বেইজড রিভিউ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডিরেকশন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন—বেন্ডস্টা। এতে তামমাক পণ্যের ক্ষতি হ্রাসের বিষয়ে বৈশ্বিক তথ্য ও নীতিগত অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বেন্ডস্টার সভাপতি সুমন জামান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) গত ৪ মার্চ ন্যাশনাল ইয়ুথ টোব্যাকো সার্ভে ডেটাসেটে ২০২৫ সালে পরিচালিত জরিপের তথ্য প্রকাশ করেছে।
এতে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের ই-সিগারেট বা ইএনডিএস ব্যবহার ২০২৫ সালে প্রায় ৫.২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে সামগ্রিক তামাক ব্যবহার কমে ৭.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং সিগারেট সেবন ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, বিশ্বব্যাপী ইএনডিএস বা ভেপ ব্যবহারকারীদের অনেকেই ধূমপান ত্যাগ বা ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে এটি গ্রহণ করছেন।
বেন্ডস্টা সভাপতি বলেন, এই ধরনের ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে সেসব প্রগতিশীল দেশে, যেখানে এসব পণ্য নিষিদ্ধ না করে নিয়ন্ত্রিত নীতিমালা কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
বেন্ডস্টা জানায়, বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সংশোধিত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বেন্ডস্টার সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান আহমেদ বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ পুনমূল্যায়নের মাধ্যমে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো তৈরির সময়োপযোগী সুযোগ এখন। যার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও বজায় রাখা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক প্রমাণভিত্তিক গবেষণা ইঙ্গিত করে যে, দহনযোগ্য সিগারেট থেকে কম ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্পে রূপান্তর জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, বিশ্বের ১৯৮টি দেশের মধ্যে ১৫৬টি দেশ অর্থাৎ মোট ৭৮.৮ শতাংশ কোনো না কোনো আইনি কাঠামোর আওতায় ইএনডিএস ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। অপরদিকে, যেসব দেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেখানে তা কালোবাজারকে শক্তিশালী করেছে এবং অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের বিস্তার ত্বরান্বিত হয়েছে।
এ সময় বেন্ডস্টার অ্যাডিশনাল জেনারেল সেক্রেটারি তৌফিক আহমেদসহ সংগঠনের নির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এমএএস/এমএমকে