শুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন

১০ বছরে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
পরিসংখ্যান ভবন। ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালে দেশে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। এ হিসাবে ১০ বছরের ব্যবধানে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বেড়েছে ৩৮ লাখ ৮৪ হাজার ২২৭টি, অর্থাৎ ৪৯.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শুমারি অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে নিয়োজিত মোট জনবল এখন ৩ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৬১ জন। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০ জন। অর্থাৎ জনবল বেড়েছে ২৫.০৩ শতাংশ।

মোট জনবলের মধ্যে ৮৩.২৮ শতাংশ পুরুষ এবং ১৬.৭১ শতাংশ নারী। এছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) অংশগ্রহণ (০.০১ শতাংশ) রেকর্ড করা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সর্বোচ্চ ২৭.০৮ শতাংশ ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম (১৭.৫১ শতাংশ) এবং রাজশাহী (১৪.৩৬ শতাংশ)। সবচেয়ে কম অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে সিলেট বিভাগে (৪.৬৭ শতাংশ)। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনায় ১২.৭৩ শতাংশ, রংপুরে ১১.৪১ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৬.৬৩ শতাংশ এবং বরিশালে ৫.৬১ শতাংশ ইউনিট রয়েছে।

দেশের মোট ইউনিটের মধ্যে বড় অংশই মাইক্রো ও কুটির শিল্প। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাইক্রো শিল্পে রয়েছে ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৪৮২টি (৫৬.৬৭ শতাংশ), কুটির শিল্পে ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮৯টি (৩৮.৭৪ শতাংশ), ক্ষুদ্র শিল্পে ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩২৩টি (৪.২০ শতাংশ), মাঝারি শিল্পে ৩৬ হাজার ১১২টি (০.৩১ শতাংশ) এবং বৃহৎ শিল্পে ৯ হাজার ২৮৬টি (০.০৮ শতাংশ)।

দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোর ৯০.০২ শতাংশই সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত, যার সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৩টি। অন্যদিকে শিল্প খাতের ইউনিট মাত্র ৯.৯৮ শতাংশ। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ‘পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা এবং মোটরযান মেরামত’ খাত সর্বোচ্চ ৪১.৮২ শতাংশ দখল করে আছে।

মালিকানার ভিত্তিতে দেখা যায়, দেশের ৮৭.৩৬ শতাংশ স্থায়ী প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মালিকানাধীন। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে ১.৮২ শতাংশ এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে ১.৪৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।

শুমারির তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে পল্লী এলাকায় মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৮টি এবং শহর এলাকায় ৪৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৬৪টি। ২০১৩ সালের তুলনায় উভয় এলাকাতেই উল্লেখযোগ্য হারে ইউনিট বেড়েছে।

এদিকে, মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের মধ্যে ৫৩.৫৭ শতাংশ স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, ৪.৯১ শতাংশ অস্থায়ী এবং ৪১.৫২ শতাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসম্পন্ন খানা।

অর্থনৈতিক ইউনিট বলতে পণ্য উৎপাদন বা সেবা প্রদানের মাধ্যমে আয়সংশ্লিষ্ট যে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক সত্তাকে বোঝায়। যেখানে অর্থনৈতিক কাজ হয় সেটাই অর্থনৈতিক ইউনিট। অর্থনৈতিক ইউনিট হতে পারে—একজন ব্যক্তি (যেমন: ফ্রিল্যান্সার, দর্জি), একটি দোকান বা ব্যবসা, একটি কোম্পানি বা কারখানা, যে কোনো প্রতিষ্ঠান, যেখানে পণ্য তৈরি হয় বা সেবা দেওয়া হয় এবং এর মাধ্যমে আয় হয়।

এমওএস/এসএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।