করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব ঢাকা চেম্বারের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৭ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ ও সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই)। এছাড়া নন-লিস্টেড কোম্পানির করহার লিস্টেড কোম্পানির মতো ২৫ শতাংশ ও পূর্ণাঙ্গ অটোমেটেড করপোরেট কর রিটার্ন পদ্ধতি চালু করাও প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬-২৭: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় ডিসিসিআই এসব প্রস্তাব দেয়। ডিসিসিআই, চ্যানেল-২৪ ও দৈনিক সমকাল যৌথভাবে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আরও উপস্থিত আছেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) প্রেসিডেন্ট মো. কাওসার আলম, আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরীফ জহীর প্রমুখ।

ডিসিসিআই’র প্রস্তাবনায় বলা হয়, পিএসআর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে ইটিডিএস প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে ই-ট্যাক্স এনবিআর পোর্টালের সঙ্গে সমন্বিত করে পিএসআর স্বয়ংক্রিয়করণ। আমদানি পর্যায়ে আগাম কর উৎপাদনকারীদের জন্য পর্যায়েক্রমে বিলুপ্তি ও বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য হ্রাস করা। ভ্যাট সংগ্রহে অনলাইন ম্যানেজম্যান্টের (ওয়েবসাইট) পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ চালু করা। অগ্রিম ভ্যাট ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করে পণ্য বা সেবার চূড়ান্ত মূল্যের ওপর ভ্যাট নির্ধারণ করা। সিঙ্গেল স্টেপ রিফান্ড ব্যবস্থা চালু করে দ্রুত ভ্যাট রিফান্ড প্রক্রিয়া সহজীকরণ।

ডিসিসিআই বলছে, স্থানীয় বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধির জন্য নীতি সুদহার যৌক্তিকীকরণ করা। সরকারি ঋণ গ্রহণে দেশীয় ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা হ্রাস এবং ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরি। উৎপাদনশীল খাতে লক্ষ্যভিত্তিক পুনঃঅর্থায়ন, ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম ও ক্রেডিট ইনফরমেশন চালু করা জরুরি।

ফিনান্সিয়াল অ্যান্ড নন ফিনান্সিয়াল সেক্টরে কর্পোরেট গভর্নেন্স, সুপারভিশন এবং মনিটরিং বাড়াতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন করতে নতুন আইপিও বৃদ্ধি এবং বড় প্রতিষ্ঠান ও এসএমই-এর তালিকাভুক্তি উৎসাহিত করা ও দীর্ঘমেয়াদী বন্ড চালু করা।

শিল্প ও বাণিজ্য সম্পর্কিত ডিসিসিআই’র প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে চামড়া শিল্প উন্নয়নে কার্যকর সিইটিপি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও ব্যক্তি পর্যায় ইফুলুয়েনফ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপনের জন্য সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত এবং কৃষি পণ্যের প্রসারে পণ্য ভিত্তিক কোল্ড চেইন অবকাঠামো উন্নয়ন করা প্রয়োজন। এলডিসি গ্র‍্যাডুয়েশনের আগে ফার্মাসিটিক্যাল, আইসিটি, ইলেক্ট্রনিক্স, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পসহ অন্যান্য সেবাখাতে পেটেন্ট নিশ্চিত করতে এবং আইপিআর এসাইকোড তৈরিতে বিশেষ প্রনোদনা দেওয়া। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে সিএমএসএমইদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিআইটিএসি এর র মেটারিয়াল ব্যাংক এর সরবরাহ সারাদেশে নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দ রাখা। সেমিকন্ডাক্টর খাতের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি -এ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশেষায়িত পার্কের জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা। উৎপাদনমুখী সিএমএসএমই-গুলোর উচ্চ উৎপাদন খরচ এবং জ্বালানির দামের অস্থিরতা মোকাবিলায় ৫-৬ শতাংশ হারে সুনির্দিষ্ট ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সহায়তার বাজেটে বরাদ্দ রাখা। ওষুধ শিল্পের বিকাশে মুন্সিগঞ্জের এপিআই পার্কের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধা নিশ্চিত করা।

ডিসিসিআই বলছে, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে উচ্চমূল্যের নির্মাণ উপকরণ এবং মেশিনারির ওপর শুল্ক ও ভ্যাট ছাড় নিশ্চিত করা। ইনফ্রাস্ট্রাকচার বন্ড, সুকুক ও অন্যান্য ইনোভেটিভ ফাইন্যান্সিং মডেল চালু করে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি করা।

জ্বালানির দাম প্রেডিক্টেবল রাখতে রপ্তানিকারক দেশসমূহের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিল্প ও ভোক্তাদের ওপর চাপ কমানো।

প্রকল্প নির্বাচন ও বাস্তবায়নে মিতব্যয়ী হওয়া এবং প্রকল্পগুলো মনিটরিং ও ইভালুয়েশনে রিয়েল টাইম মনিটরিং সিস্টেম চালু করা।

সেবা খাতের তথ্য সংরক্ষণে হাই সিকিউরিটি ডেটা সেন্টার স্থাপন। নতুন মেগাপ্রকল্প নেওয়ার চেয়ে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি' (যেমন- হাইওয়ে থেকে কারখানায় যাওয়ার সংযোগ সড়ক নিশ্চিত করা। উৎপাদনশীল খাতের কম্পলাইন্স
নিশ্চিত করণ ও প্রতিযোগীতাসক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এনভায়রনমেন্টাল, সোস্যাল অ্যান্ড কর্পোরেট গভার্মেন্স (ইএসজি বাস্তবায়নে বাজেট সহায়তা প্রদান করা প্রয়োগ।

ইএইচটি/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।