সিমে ভ্যাট ও ওটিটি সেবায় শুল্ক প্রত্যাহার চায় এমটব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১১ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

সিম ও ই-সিম সরবরাহ এবং প্রতিস্থাপনের ওপর থাকা ৩০০ টাকা ভ্যাট প্রত্যাহার এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে এনবিআর ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানিয়ে সংগঠনটি বলছে, সিমের ওপর ভ্যাট নিম্নআয়ের মানুষের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বাধা হিসেবে কাজ করছে।

তরঙ্গ বরাদ্দের সময় ভ্যাট আরোপ ও পরবর্তীতে সেই তরঙ্গ ব্যবহার করে সেবা দেওয়ার সময় আবারও ভ্যাট প্রদানকে ‘দ্বৈত কর’ হিসেবে অভিহিত করেছে সংগঠনটি। এ নীতির অবসান জরুরি বলে জানায় সংগঠনটি।

এমটব জানায়, বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটরদের জন্য করপোরেট কর ৪০ শতাংশ এবং অতালিকাভুক্তদের জন্য ৪৫ শতাংশ, যা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি। এই করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

এমটব জানায়, বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের মোট আয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশই বিভিন্ন ভ্যাট ও কর হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ নিলামের বছরগুলোতে এই করের চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশে মোবাইল খাতে বিপুল বিনিয়োগের তুলনায় আয় ও মুনাফা সন্তোষজনক নয়। বর্তমানে বাংলাদেশে গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ১৫০ টাকার নিচে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সংগঠনটি বলছে, বর্তমানে টেলিযোগাযোগ সেবায় ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক (এসডি) এবং ১ শতাংশ সারচার্জ রয়েছে। ডিজিটাল কানেক্টিভিটি বাড়াতে এই অতিরিক্ত শুল্ক ও সারচার্জ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করতে হবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি) কাস্টমস ও ভ্যাট সুবিধার মেয়াদ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বলবত রাখার প্রস্তাব করেছে।

তারা বলছে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের নিরাপত্তা এবং গ্রে মার্কেটের (অবৈধ বাজার) চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই সময়সীমা বাড়ানো জরুরি।

এছাড়া ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শক্তিশালী করতে ডেটা ক্যাবল তৈরির উপকরণগুলোকেও (যেমন: কপার, পিভিসি, ইউএসবি কানেক্টর) রেয়াতি সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। ব্যবসায়ী পর্যায়ে বর্তমান ৭.৫% ভ্যাটের পরিবর্তে শুধু প্রকৃত মূল্য সংযোজনের ওপর ভ্যাট নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। এতে ভোক্তাদের জন্য মোবাইলের দাম আরও সাশ্রয়ী হবে বলে দাবি করছে সংগঠনটি। 

উৎপাদন খরচ কমাতে মোবাইল যন্ত্রাংশ আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে এমআইওবি। এছাড়া, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে ১০০% মাদারবোর্ড সংযোজন করে, তবে তাকে বিশেষ কর সুবিধা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে তারা।

সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে দেশের কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৩০-৪০% ব্যবহৃত হচ্ছে। নীতিমালার মেয়াদ না বাড়লে বিশাল বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং দেশ আবারও আমদানিনির্ভর হয়ে পড়তে পারে।

এসএম/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।