স্বর্ণখাত থেকে বছরে ১২-১৪ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০৪ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির সভায় উপস্থিত অতিথিরা, ছবি: জাগো নিউজ
  • স্বর্ণ ব্যবসাকে সাদা অর্থনীতিতে আনতে হবে
  • নীতি সহায়তা পেলে স্বর্ণখাত হবে নতুন রপ্তানি শক্তি

বাংলাদেশের স্বর্ণ ব্যবসা খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেছেন, সঠিক নীতি, আধুনিক সুবিধা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাতকে সাদা অর্থনীতির আওতায় এনে বড় রপ্তানি খাতে পরিণত করা সম্ভব। আগামী দিনে এ খাত থেকে বছরে ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার আয় করা যেতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায়’ তিনি এসব কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও এফবিসিসিআই প্রশাসক আব্দুর রহিম খানের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নতুন সরকার একটি প্রতিকূল সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আগামী বাজেটে বেসরকারি খাতের প্রস্তাবনা কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করা এখন অত্যন্ত জরুরি। এটি শুধু অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং সামগ্রিক জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গেও জড়িত।

তিনি বলেন, বর্তমানে বেসরকারি খাতের অনেক শিল্পখাত সংকটের মুখে রয়েছে। এসব খাতকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার, ব্যাংক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং লজিস্টিক সমস্যার মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এখন নতুন বিনিয়োগের চেয়ে বিদ্যমান ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো ছাড়া দেশের উন্নয়নকে টেকসই করা সম্ভব নয়। কর দেওয়ার বিনিময়ে কিছু পাওয়া যায় না এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও সেবা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব, যা কর রাজস্বের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।

তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, প্রস্তাবনা দেওয়ার সময় শুধু নিজ নিজ খাতের সুবিধার কথা নয়, জাতীয় স্বার্থও বিবেচনায় রাখতে হবে। খাতভিত্তিক স্বস্তি এবং জাতীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধি দুই বিষয়কে সমন্বয় করেই প্রস্তাব দিতে হবে।

স্বর্ণ ব্যবসা খাতের প্রসঙ্গ তুলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এ খাতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক নীতি, আধুনিক সুবিধা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাতকে সাদা অর্থনীতির আওতায় এনে বড় রপ্তানি খাতে পরিণত করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ চাইলে আগামী দিনে এ খাত থেকে ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা দক্ষ হাতে রয়েছে এবং সরকার ব্যবসাবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে। আগামী দিনে এর ইতিবাচক ফল ব্যবসায়ীরা দেখতে পাবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইএআর/এমএমএআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।