ওষুধ-পোশাকে ভর করে বাড়লো সূচক, কমেছে লেনদেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
শেয়ারবাজারে সূচকের ওঠানামা ও ওষুধ-পোশাক খাতের প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে, এআই-জেনারেটেড ছবি

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেশের শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। অধিকাংশ ওষুধ ও পোশাক কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ায় প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক বেড়েছে। সেইসঙ্গে বড় হয়েছে দাম বাড়ার তালিকা।

এদিন লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় সূচকে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। প্রথম তিন ঘণ্টা এ ধারা অব্যাহত থাকলেও শেষ ঘণ্টায় কিছু কোম্পানির শেয়ারদর কমে যায়। তবে ওষুধ ও পোশাক খাতের শেয়ারের উত্থান অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত সূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৭টির। আর ৫১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকা বড় রাখতে মূল ভূমিকা পালন করেছে ওষুধ ও পোশাক খাত।

ওষুধ খাতের ৩৪টি কোম্পানির মধ্যে ২৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯টির দাম কমেছে এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর পোশাক খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৩৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩টির শেয়ার দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯৯টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৪টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২টির এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৬টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৪টির দাম বেড়েছে এবং ৪টির দাম কমেছে ও ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৮৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৩৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার। ২৪ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- লাভেলো আইসক্রিম, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ব্যাংক এশিয়া, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং সায়হাম কটন।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৮টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

এমএএস/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।