অবশেষে ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার, হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো লেনদেন
টানা পাঁচ কার্যদিবস দরপতনের পর মঙ্গলবার (১২ মে) দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার ধারা অব্যাহত থাকে। এতে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্য সূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৮টির। আর ৬৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭৬টির দাম কমেছে এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২২টির এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৭টি শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৯টির এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে দুটির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৭টির দাম কমেছে এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৮৯ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১০১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭১৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৩৮৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
এ লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মুন্নু সিরামিকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার। ২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে অ্যাকমি পেস্টিসাইড।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি, এনসিসি ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন, স্যালভো কেমিক্যাল, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, লাভেলো আইসক্রিম এবং বিডি থাই ফুড।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৭টির এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২০ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
এমএএস/এমএএইচ/