হরতাল-অবরোধের প্রভাব পড়েছে খাদ্যপণ্যের বাজারে
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আর গত এক সপ্তাহ টানা হরতালের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর খাদ্যপণ্যের বাজারে। বিশেষ করে মাছ, মাংস আর সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন ক্রেতারা।
রাজনৈতিক সহিংসতা আর টানা হরতাল-অবরোধে বাজারে সরবরাহ কম, অন্যদিকে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ার কারণ বলছেন ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা। আর মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। মাছ বিক্রি হচ্ছে আগেরর সপ্তাহের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা। কাঁচাবাজারে সবজি ঘাটতি না থাকলেও পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় সবজি বাজারও চড়া।
শুক্রবার কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা, বেগুন ৩২-৩৬ টাকা, ফুলকপি আকারেভদে ১৫-২৫ টাকা ও বাঁধাকপি ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া প্রতিকেজি শালগম ২০-২৪ টাকা, করলা ৬০-৮০ টাকা, শিম ৩০-৪০ টাকা, টমেটো ৩০-৩৬ টাকা, গাজর ২৫-৩০ টাকা, মূলা ১০-১৫ টাকা, শশা ২৪-৩২ টাকা, পেঁয়াজের কলি ৩০-৩৫ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, লাউ আকারভেদে ৪০-৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০-৩৫ টাকা, চাল কুমড়া ৪০-৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা ও মটরশুটি ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর খুচরা মাছবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই ৩৬০-৪০০ টাকা, কাতলা ৪০০-৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০-২২০, সিলভার কার্প ১৮০-২০০ টাকা, আইড় ৪৫০-৮০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬০০-১৪০০ টাকা, পুঁটি ১৬০-২০০ টাকা, পোয়া ৪০০-৪৫০ টাকা, মলা ৩২০-৩০০ টাকা, পাবদা ৫০০-৬০০ টাকা, বোয়াল ৪৫০-৫০০ টাকা, শিং ৬০০-৮০০, দেশি মাগুর ৬৫০-৭০০ টাকা, শোল মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৪০-১৬০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০-২২০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, খাসির মাংস ৫২০-৫৭০ টাকা, ব্রয়লার কেজি ১৪০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৩০-৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি ৩২ টাকা এবং দেশি মুরগির ও হাঁসের ডিম ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে মুদি পণ্যের মধ্যে দেশি মসুর ডাল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকা আর ভারতীয় মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা দরে। বুটের ডাল ৪০-৪৫ টাকা, মাসকলাই ৯০ টাকা, ছোলা ৫৫-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি খোলা চিনি ৪৩-৪৫ টাকা, প্যাকেট চিনি ৫০ টাকা, প্রতি কেজি খোলা ময়দা ৪০ টাকা এবং প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকা দরে।
প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৫-৩৮ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৪-৩৬ টাকা, দেশি রসুন কেজি প্রতি ৫ টাকা কমে ৯৫ টাকা, মোটা রসুন ৯০ টাকা ও এক দানা রসুন ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে চালের দামও চড়া। সরু চাল (মিনিকেট, নাজিরশাইল) কেজিপ্রতি ৪৮-৫৪ টাকা, মাঝারি (পারিজা, হাঁসকি, বি-আর ২৮) ৩৮-৪২ টাকা, মোটা (বি-আর ৮,১১) ৩৪-৩৫ টাকা, সুগন্ধি (কালোজিরা, চিনিগুড়া) ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকেই দায়ী করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের তথ্য মতে, আগে একগাড়ি চালের পরিবহন খরচ ১৮-২০ হাজার টাকা নিলেও সেই খরচ বর্তমানে নিচ্ছে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার। সে কারণে এ পরিবহন ব্যয় চালের দাম থেকে তুলতে হচ্ছে। যার জন্য দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
খিলগাঁও বাজারের এক ক্রেতা বেসরকারি চাকরিজীবি শহ-আলম জাগোনিউজকে বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা আর হরতাল অবরোধে বিপদে পড়ে আমাদের মত সাধারণ মানুষ। সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম চড়া। কিন্তু আমাদের আয় নির্ধারিত। গত সপ্তাহের তুলনায় মাছ ও সবজির দাম বেশি দেখছি। মাংসের যে দাম বেড়েছে তাতে হাতই দেওয়া যায় না।
অবরোধ-হরতালে দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ থাকায় ঢাকায় পণ্য আসতে পারেনি। এছাড়া কিছু কিছু পণ্যবাহী ট্রাক রাজধানীতে আসলেও ভাড়া গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ-তিনগুণ। ফলে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। আর হরতাল অবরোধ এভাবে চলতে থাকলে জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এসআই/ এআরএস/এমএস