বাংলাদেশি পণ্য আমদানির পরামর্শ ভিয়েতনামকে


প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ২৩ মার্চ ২০১৫

ভিয়েতনামের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভিয়েতনামকে অধিকহারে বাংলাদেশি পণ্য আমদানির পরামর্শ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

বাংলাদেশ সফররত ভিয়েতনামের বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক উপমন্ত্রী হোয়াং কোয়াক বুয়াং এর নেতৃত্বে সাত সদস্যের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠককালে শিল্পমন্ত্রী এ পরামর্শ দেন। সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বমানের ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কাপড়, সিরামিকস, টাইলস ও তৈরি পোশাক উৎপাদন করছে। ভিয়েতনামের উদ্যোক্তারা এসব পণ্য বাংলাদেশ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানি করতে পারেন। এর ফলে দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় উভয় দেশের শিল্পখাতে যৌথ বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ভিয়েতনামকে স্বীকৃতি প্রদান করে। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির কারণে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের চমৎকার সুযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন, আইটি, ইলেকট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স, হাই কোয়ালিটি গার্মেন্ট, জ্বালানি, রাসায়নিক সার ইত্যাদি খাতে যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে ভিয়েতনামের প্রতিনিধিদলের প্রতি আহ্বান জানান।

আমির হোসেন আমু বলেন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে প্রতিবছর শতকরা ২০ ভাগ হারে বাণিজ্য বাড়ছে। ২০০২ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও বর্তমানে তা ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তিনি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অনুকূলে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের ওপর গুরুত্ব দেন।

এসময় ভিয়েতনামের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভিয়েতনাম বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী। তারা বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের ওষুধ, সিমেন্ট, চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিকসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি বাড়াবেন বলে উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে কৃষি ও নির্মাণ যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সারসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে চায়। তারা এ জন্য দু’দেশের মধ্যে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময়, বাণিজ্য মেলা ও পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন, আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়া ও ভিসাদান পদ্ধতি সহজ করার পরামর্শ দেন।

বৈঠকে শিল্প সচিব মো. মোশাররাফ হোসেন ভূঁইয়া এনডিসি, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত নগুইয়েন কোয়াং থাক, ভিয়েতনাম দূতাবাসের কর্মকর্তা খান ভুসহ প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এসআই/বিএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।