সরকারের উদ্যোগের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে আবাসন খাত


প্রকাশিত: ০১:২২ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৫

সরকারের উদ্যোগের অভাব, দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা মন্দা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারসহ নানা কারণের পিছিয়ে পড়ছে দেশের আবাসন খাত। গত পাঁচ বছরে আবাসন খাতে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিতে অংশগ্রহণ কমেছে দশমিক ৬৬ শতাংশ। আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আবাসন খাত ২০০৯-১০ অর্থবছরে জিডিপির অংশগ্রহণ শতকরা হার ছিল ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছর তা নেমে এসেছে ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশে। এছাড়া ২০১০-১১ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে কমে আসে ৭ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

এর কারণ হিসেবে এ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য আবাসন বা আবাসন সহায়ক কোনো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এদেশে নেই। নেই মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য কোনো বিশেষ ঋণ তহবিল। রয়েছে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার। তারপরও অত্যাধিক হারে রেজিস্ট্রেশন ফি, ক্রয় সংক্রান্ত নানা জটিলতা আর হয়রানির শিকার হচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই। এছাড়াও গত কয়েক বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সব ধরনের ব্যবসায় এখন স্থবির অবস্থা। এসব কারণে পিছিয়ে পড়ছে দেশের আবাসন খাত।  

রিহ্যাবের তথ্য মতে, রাজধানী ঢাকার ৮০ ভাগ মানুষেরই নিজেদের ঘরবাড়ি নেই। ঢাকার শতকরা ১৫ ভাগ জমি ব্যবহার করেন মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ উচ্চবিত্ত মানুষ। ৬৫ শতাংশ জমি ব্যবহার করেন ২৪ শতাংশ মধ্যবিত্ত এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষ ব্যবহার করেন মাত্র ২০ শতাংশ জমি। তারপরও সব মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের সুর্নিদিষ্ট কোনো উদ্যোগ নেই।
 
সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগের উদাহরণ হতে পারে ভারতের কলকাতা বা দিল্লি শহরের পাশে গড়ে উঠা মেগাসিটিগুলো। এসব প্রকল্পের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। আর ভূমি উন্নয়ন ও হস্তান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে বেসরকারি কোম্পানি। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের আবাসিক প্রকল্পগুলো গড়ে উঠছে তাদের নিজস্ব উদ্যোগ ও পরিকল্পনায়।

যার কারণে এখনো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দেশজ উৎপাদনে অবদানের দিক থেকে বাংলাদেশের আবাসন খাত ভালো অবস্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে ভারতের জিডিপিতে আবাসন খাত ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ৩ শতাংশ অবদান রাখছে।

বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণই আবাসন খাতের মূল ভরসা। কিন্তু উচ্চ সুদহার এবং প্রকাশ্য ও গোপন নানা চার্জ ও প্রসেসিং ফি`র কারণে বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আবাসন ঋণ মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের জন্য সহনীয় নয়। আবাসন ঋণে ব্যাংকগুলোর ঘোষিত সুদের হার ১২ থেকে সাড়ে ১৯ শতাংশ। কিন্তু বিভিন্ন চার্জ ও প্রসেসিং ফি মিলিয়ে এ হার বাস্তবে ১৬ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে যায়।

বিভিন্ন দেশের ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইট সূত্রে দেখা গেছে, মালয়েশিয়ায় গৃহঋণের সুদের হার গড়পড়তা ৬ শতাংশ। ওই দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৪ দশমিক ৩৯ থেকে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ হার সুদে গ্রাহকদের গৃহঋণের অফার দিচ্ছে। জাপানে ২ থেকে ৩ শতাংশ সুদে আবাসন ঋণ পাওয়া যায়। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতে ঋণের সুদহার ১০ শতাংশ বা এর নিচে।

আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়হিদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, আবাসন খাতে বর্তমানে মন্দা অবস্থা বিরাজ করছে। দীর্ঘ দিন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো সংকটের মধ্যে পড়েছে দেশের আবাসন খাত। আর এসব কারণে জিডিপিতে পিছিয়ে পড়ছে আবাসন খাত।

ওয়হিদুজ্জামান বলেন, এক দিকে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও খারাপ অবস্থা অন্য দিকে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার সব মিলিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ক্রেতারা। যার কারণে ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে আবাসন খাতে সরকারের নানা উদ্যোগ থাকলের আমাদের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। ফ্ল্যাট কেনার জন্য সল্প আয়ের ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের এক অংকের সুদে ঋণ দেওয়ার দাবি জানান।

একই সঙ্গে আবাসন খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। সরকার সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করলে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এসআই/বিএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।